যতক্ষণ না নির্বাচন কমিশন কোনও নির্দেশ বা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিচ্ছে ততক্ষণ জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) হিসেবেই আসন্ন দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে (By-Election) প্রার্থী দেবে মমতাপন্থীরা। শনিবার, প্রায় ঘণ্টা দুয়েক জাতীয় নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) বৈঠক করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Benarjee)। তিনি জানান, কমিশনের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে পারে কমিশন- জানান কল্যাণ।

বিস্তারিত আসছে...

এদিন প্রথমে প্রায় ঘণ্টা খানেক ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। তারপর মমতাপন্থী তৃণমূল-এর সঙ্গে বৈঠক হয়। নেতৃত্ব দেন কল্যাণ। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি। কী কী বলেছি আমি রিপিট করব না। ইলেকশন কমিশন সেটা বিবেচনা করবেন। মাঝখানে বিরতিসহ বৈঠক দুঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। আমরা যেসব বিষয় উত্থাপন করতে চেয়েছিলাম, তার সবই তুলে ধরেছি। একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদেশটি জারি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারছি না। সেটি দেখার পরেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।“

 তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ জানান, “আমাদের কাছে কোনও নতুন নথি চাওয়া হয়নি। আমরা মাত্র একটি নথি জমা দিয়েছি। আমরা এটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আমরা আর কোনও নথি পাইনি। তারা যদি নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনও নথি জমা দিয়ে থাকে, তবে সে বিষয়ে আমাদের কোনও জানা নেই।“ কল্যাণের কথায়, “জুঁই বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। আমরা বলেছি যে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পাননি এবং তিনি বা অন্য কেউ তা পেতেও পারেন না। জুঁই বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজে আবেদনটি করতেন, তবে বিষয়টি ভিন্ন হতো। ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যেই একটি 'নেগেটিভ অ্যাপ্লিকেশন' দাখিল করেছি।“ 

 তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিষয়ে কমিশনের প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ বলেন, “কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি আদেশ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন হাই কোর্টের আদেশ অমান্য করতে পারে না। হাই কোর্ট বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে নিয়োগ করেছে এবং নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় সব অর্থপ্রদান ওই তহবিল থেকেই করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টও এই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তাদের আর কিছুই করার নেই।“ এক্ষেত্রে ঋতশিবিরকে বিরক্ত করার তাঁদের কোনও কারণই নেই বলে জানান কল্যাণ।  

এদিন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের বৈঠকে সবার নজর ছিল-কোন পক্ষে থাকে প্রতীক ও নাম। বৈঠকের পরে স্বভাবতই এই বিষয়ে কল্যাণকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। উত্তরে তৃণমূল সাংসদ জানান, “যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্বাচন কমিশন বলে যে আমাদের সিম্বল দেওয়ার অধিকার নেই ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজের সিম্বল নিয়ে লড়ব।" এর পরেই কল্যাণ স্পষ্ট করে দেন, “আমরা তো নন্দীগ্রাম-রেজিনগর দু'টোতেই লড়ব।“