শীর্ষ আদালতে রক্ষাকবচ খারিজ হয়ে যেতেই গ্রেফতার তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Ray)। বৃহস্পতিবার কালীঘাট রোডের অভিষেকের বাড়ি ঘিরে ফেলে এসটিএফ (STF) ও সিআইডি (CID) আধিকারিকরা। তার পরেই সুমিতকে গ্রেফতার করে ভবানী ভবন নিয়ে যাওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।
কালীঘাটে (Kalighat) অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি আধিকারিকদের যাওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি উত্তেজনা হয়। বাড়ির বাইরে মোতায়েন নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পর শেষ পর্যন্ত গেট খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন তদন্তকারীরা। সিআইডি আধিকারিকেরা বাড়ির ভিতরে ঢোকার পরই তাঁদের নজরে পড়েন সুমিত। তাঁকে ঘিরে ফেলেন তদন্তকারী দলের সদস্যেরা। গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলে ভবানী ভবন নিয়ে যাওয়া হয়।
শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ফলে তাঁকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি সুরক্ষা নেই। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানায়। এই পরিস্থিতিতে সুমিতকে গ্রেফতার করে সিআইডি। মামলার শুনানিতে সুমিতের তদন্তে সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁকে তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাননি সুমিত।
এদিন মামলার আর্থিক লেনদেন নিয়েও উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Joymalya Bagchi) বলেন, যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে নগদ টাকা জমা হয়েছে, তার সঙ্গে সুমিতের প্যান নম্বরের যোগ রয়েছে। আরও একটি বিষয় আদালতের নজরে আসে। যে সময়ে সুমিতের বিরুদ্ধে বাজার থেকে বড় অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে, একই সময়ের আশপাশে একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ জমা পড়েছে।
এর আগে বুধবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, শুধু জুন মাসেই সুমিতের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, তাঁর অ্যাকাউন্টে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এত বিপুল অর্থের উৎস নিয়েই তদন্তকারীদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের হয়ে এদিন আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
অন্যদিকে সুমিতের আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেন। গোপালশঙ্কর নারায়ণ এবং অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁদের মক্কেলকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৮৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এফআইআরে সুমিতকে সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবেও দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, নথিপত্র খতিয়ে দেখলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব এবং মামলায় সুমিতের ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত। সুমিতের আইনজীবীদের আরও দাবি, তদন্তের আসল লক্ষ্য অন্য কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছনো। সুমিতকে সামনে রেখে তদন্তকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের কারও বিরুদ্ধে যেতে চাইছেন বলেও আদালতে অভিযোগ করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি তাঁরা।
















