কলকাতার দুর্গাপুজো ( kolkata Durga Pujo) এবার আরও বড় পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ। বাংলার অন্যতম বৃহত্তম সাংস্কৃতিক উৎসবকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে ‘দুর্গাপুজো প্রিভিউ ট্যুর’-এর পরিকল্পনা করেছে আদানি গোষ্ঠী ( Adani Group)। তবে এ বারের উদ্যোগে থাকছে বিশেষ চমক। শুধু দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য নয়, বিপুল সংখ্যক প্রবীণ নাগরিককেও এই পুজো পরিক্রমার শামিল হতে চলেছেন।
আরও পড়ুন: বিধানসভায় 'আশিস-স্মরণ', মৃত্যুর নেপথ্যে কারণ নিয়ে উঠল নানা প্রশ্ন
নবান্ন সূত্রে খবর, এই বছর আদানি গোষ্ঠীর প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি প্রবীণকে কলকাতার দুর্গাপুজো ( Kolkata Durga Puja) দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিন দিনের এই বিশেষ পরিক্রমায় কলকাতার ( Kolkata) বাছাই করা আটটি পুজো ঘুরে দেখবেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। আর তাতেই মণ্ডপের শিল্পভাবনা, প্রতিমার বৈচিত্র্য, পুজোর ঐতিহ্য এবং আয়োজনের নেপথ্যের কারিগরি দক্ষতা সবই কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন তাঁরা। সেই সঙ্গে কলকাতার আতিথেয়তার স্বাদও গ্রহণ করবেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা অতিথিরা।
উল্লেখ্য, পুজোয় বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে অতিথিদের নিয়ে ঘোরানোর চল নতুন নয়। কিন্তু সেই পরিক্রমায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা সচরাচর দেখা যায় না। এ বার সেই জায়গাতেই আলাদা নজর দিতে চাইছে আদানি গোষ্ঠী। নবান্নকে দেওয়া প্রস্তাবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রবীণদের সামনে রেখেই এই বিশেষ পুজো পরিক্রমার আয়োজন করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের।
মহালয়ার দিন ইডেন উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে এ বছরের দুর্গাপুজোর সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রেড রোডে রোড শো এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। আর সেই দিন অর্থাৎ ১০ অক্টোবর থেকেই শুরু হবে আদানি গোষ্ঠীর এই দুর্গাপুজোর আগাম পরিক্রমা। ১০, ১১ এবং ১২ অক্টোবর টানা তিন দিন ধরে চলবে এই আয়োজন। মূলত মহালয়া, প্রথমা এবং দ্বিতীয়া এই তিন দিনই হবে পরিক্রমা। সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় ও পুজো দেখার ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কথা মাথায় রেখেই দর্শনার্থীদের মূল ঢল নামার আগেই এই পরিক্রমার আয়োজন করা হয়েছে। আপাতত সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাছাই করা আটটি পুজো ঘুরে দেখবেন আমন্ত্রিতরা। আগামী বছরগুলিতে এই পরিক্রমায় আরও বেশি সংখ্যক পুজোকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
কোন পুজোগুলি এই বিশেষ পরিক্রমার জন্য নির্বাচিত হবে, তার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রাখা হচ্ছে। মণ্ডপের শিল্পসুষমা, প্রতিমার ভাবনা, পরিকল্পনার অভিনবত্ব, বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং সামগ্রিক আয়োজন একাধিক বিষয় বিবেচনা করেই পুজো বাছাই করা হবে। আদানি ফাউন্ডেশনের তরফে নির্বাচিত পুজোগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি কোন কোন পুজো মণ্ডপগুলিতে চলবে এই পুজো পরিক্রমা।
শুধু প্রবীণেরাই নয় এই পরিক্রমায় স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের প্রায় ৫০ জন বিশিষ্ট অতিথি থাকার কথা। তাঁদের মধ্যে সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, সমাজমাধ্যমের প্রভাবশালী মুখ, শিক্ষাবিদ, পড়ুয়া, শিল্পপতি, পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা থাকবেন। আদানির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই হল, কলকাতার পুজোকে শুধুমাত্র বাঙালির উৎসবের গণ্ডিতে আটকে না রেখে বিশ্বের মানুষের কাছে তার শিল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরা।
















