চোখে গামছা বেঁধে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে বলেছিল, যা চাই তাই দেব। শুধু মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিন। তবুও মাথা নোয়াননি তিনি। মনোয়ন তোলার চাপ এতটাই দেওয়া হচ্ছিল যে একসময় তিনি নিজের 'এনকাউন্টারের' আশঙ্কাও করেন। বুধবার জেলমুক্তির পরে বিস্ফোরক দাবি করলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)।

আরও পড়ুন: যতই প্রভাবশালী হোন, শাস্তি হবেই: বৈঠকে রাহুলের নিশানায় মোদি- জ্ঞানেশ

জেল থেকে বেরিয়ে মিলনের অভিযোগ, গ্রেফতারের আগে তাঁকে কার্যত জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কী চান তিনি। সেই সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ মিলনের। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মিলন জানান, চোখ বাঁধা থাকায় ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা দেখতে পাননি। তবে রাস্তার গতিপথ থেকে তাঁর অনুমান, কাঁথি ও দিঘা পেরিয়ে তাঁকে সম্ভবত মন্দারমণির (Mandarmani) কোনও হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন নেতা ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু হোটেলে পৌঁছনোর পর তাঁকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘চোর-ডাকাত ভ্যানিশ কুমার’ ইস্তফা না দিলে আন্দোলন অনেক দূর যাবে: দিল্লির বৈঠকে রণংদেহি মেজাজে মমতা

মিলনের কথায়, সেখানে পুলিশের একাধিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এলাকার আইপিএস এবং সম্ভবত একজন ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকও ছিলেন বলে তাঁর দাবি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিনিময়ে তিনি কী চান, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন মিলন। নিজের রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে মিলন জানিয়ে দেন, কোনও পরিস্থিতিতেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

জেলমুক্তির পর আরও দৃঢ় মনোভাবেই উপনির্বাচনের ময়দানে নামার কথা জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য, মামলা বা গ্রেফতারির মাধ্যমে তাঁকে প্রচার থেকে দূরে রাখা গেলেও মানুষের কাছে পৌঁছনো থেকে আটকানো যাবে না। নন্দীগ্রামে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

মিলনের দাবি, তাঁকে যে মামলায় আটক করা হয়েছে, তা মিথ্যা। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবেন বলে মনে করেন তিনি। জেলমুক্তির পর উপনির্বাচনের প্রচার নিয়ে তিনি আগের তুলনায় আরও আত্মবিশ্বাসী বলেও জানিয়েছেন মিলন।

এদিকে, মিলন প্রধানের জামিন ঘিরে আইনি লড়াইও এখনও শেষ হয়নি। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে পরের দিনই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। তবে দ্রুত শুনানির জন্য রাজ্যের আবেদন গ্রহণ করেননি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুনানি হবে সোমবার।