গোসাবায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যে দোকানে কাজ করার অপরাধ! রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ঘরছাড়া হয়েছিলেন দম্পতি। শুধু ঘরছাড়া নয়, তাঁদের উপর শারিরীক নির্যাতনও চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। অবশেষে আইনজীবীদের জোরালো সওয়াল ও আদালতের হস্তক্ষেপে নিজের বাড়িতে ফিরছেন গোসাবার ওই দম্পতি তাপস দাস ও তাঁর স্ত্রী। মামলায় উঠে এলো বিস্ফোরক সব তথ্য। অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ নিষ্ক্রিয়, এমনকী এফআইআর-এ কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাকারীর আইনজীবীদের (Advocate) জোরালো সওয়াল এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিলেন। তাপস দাসের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ, শোভনা সেনগুপ্ত, কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্নেহা সরকার। 

তাপস দাস ও তাঁর স্ত্রী শারীরিক নির্যাতন ও হুমকির শিকার হয়ে নিজেদের বাড়ি, এমনকী গোসাবা (Gosaba) ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তাঁর 'অপরাধ' শাসকদলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্যের সাইকেলের দোকানে কাজ করতেন তিনি। এর জেরে রাজ্যের শাসকদল বিজেপির অত্যাচারের শিকার হন দম্পতি। নেমে এসেছিল তাঁদের উপর। হুমকির পাশাপাশি চলে শারীরিক নির্যাতনও। গত ২ অগাস্ট গোসাবা গ্রামীণ হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্টে তাঁদের শরীরে গুরুতর আঘাতের প্রমাণ মেলে। কিন্তু অভিযোগ, শাসকদলের দুষ্কৃতীদের বাঁচাতে সেই রিপোর্ট বিকৃত করা হয়। আদালতে সেই ঘটনার পর্দাফাঁস করেন  ​আইনজীবীরা।

ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তরুণ খাঁয়ের নাম আসল অভিযোগ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেয় গোসাবা থানা। ইমেলের (E-mail) মাধ্যমে এই অনিয়ম আগেই প্রশাসনের নজরে এনেছিলেন মামলাকারীর আইনজীবীরা। হাসপাতালের রিপোর্টের পাতায় "বাই অ্যাকসিডেন্ট" শব্দটি পরে বসানো হয়। এই জালিয়াতি দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। সবদিক খতিয়ে দেখে আদালত গোসাবা থানার ওসি-কে অবিলম্বে ওই দম্পতিকে পূর্ণ নিরাপত্তা-সহ নিজের বাড়িতে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁরা যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারেন তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ খাঁ-এর নাম কেন বাদ দেওয়া হল, তার জবাবদিহি তলব করেছেন বিচারপতি। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) অবিলম্বে সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ​মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ নভেম্বর।