নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচার ঘিরে ফের উত্তেজনা। প্রচারে বেরনোর পথেই কংগ্রেসের দুই নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস এবং সদ্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়া লেখক-সমাজকর্মী মানিক ফকিরকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ প্রদেশ কংগ্রেসের। বুধবার দলের তরফে জরুরি প্রেস বিবৃতি দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন মতুয়া সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস এবং লেখক-সমাজকর্মী মানিক ফকির নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী মিলন প্রধানের হয়ে প্রচারে যোগ দিতে চণ্ডীপুরে ছিলেন। বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁরা একটি হোটেলে থাকছিলেন। বুধবার প্রচারের উদ্দেশ্যে হোটেল থেকে বেরনোর সময় পুলিশ তাঁদের আটক করে নন্দীগ্রাম থানায় নিয়ে যায়।
তাঁর দাবি, শুধুমাত্র কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার কারণেই তাঁদের আটক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ’ বলে অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, অন্যায়ভাবে দুই নেতাকে আটকের ঘটনায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। তবে পুলিশ ঠিক কী কারণে তাঁদের আটক করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কিনা বা কোন ধারায় পদক্ষেপ করা হয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে খবর, নন্দীগ্রাম থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মানিক ফকিরকে এখনও থানায় রাখা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। যদিও কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে এমনিতেই রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রচারে যুক্ত দুই নেতাকে আটকের অভিযোগে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হওয়া মিলন প্রধানকে ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। এই আবহে দুই নেতাকে আটকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, এই ঘটনা বাংলার গণতন্ত্রকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক জায়গায়’ নিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, ভোটের ময়দানে রাজনৈতিক লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন বিরোধী দলের প্রচারকদেরই কি পুলিশি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে? যদি নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না কেন? কোন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, সেটাও কেন স্পষ্ট করা হচ্ছে না? সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মানিক ফকিরকে থানায় রেখে দেওয়ায় সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। দলের দাবি, ভোটের আগে বিরোধী কণ্ঠকে চাপে রাখার চেষ্টা হলে তা শুধু দুই নেতাকে আটক করার ঘটনা থাকে না—প্রশ্ন ওঠে গোটা নির্বাচনী পরিবেশের নিরপেক্ষতা নিয়েই।
















