ইরানের (Iran) সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরাক(Iraq) থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করছে আমেরিকা। ২০ বছর বেশি সময় পর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানায় ওয়াশিংটন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তি করেছিল বাগদাদের সঙ্গে। সেই চুক্তিরই বাস্তবায়ন করছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (American President Donald Trump) সরকার।

আরও পড়ুন: অপহরণ জল্পনার মাঝেই তেল আভিভগামী বিমানের জরুরি অবতরণ সৌদিতে!

বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে সমস্ত মার্কিন সেনা ইরাকের ঘাঁটিগুলি থেকে সরে যাবে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দিয়েছেন। এমতাবস্থায় ইরাক থেকে পেন্টাগনের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত তেহরানের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করবে বলেই সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।  

এদিকে ইরানের নেতৃত্বাধীন 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স'-এর (axis of resistance) সদস্য দুই ইরানি জঙ্গি গোষ্ঠী এমপিএফ এবং 'ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড' ইরাকে হামলা চালাতে পারে, এই আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।  মার্কিন সেনা চলে যেতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ইরাকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের (Saddam Hussein) কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, এই অভিযোগ তুলেই ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা। বন্দি করা ইরাকের শাসককে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় সাদ্দামকে। যদিও পরমাণু অস্ত্র থাকার যে দাবি আমেরিকা করেছিল বাস্তবে তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। এরপর থেকেই ইরাকে ঘাঁটি গেড়েছিল মার্কিন সেনা।

২০০৩ সালে মার্কিন সেনারা যখন সাদ্দাম হোসেনকে বন্দি করেছিল তখন তিনি আমেরিকানদের উদ্দেশে বলেছিলেন,"তোমরা ইরাক শাসন করতে পারবে না। কারণ তোমরা ইরাকিদের ভাষা, সংস্কৃতি, মনস্তত্ত্ব এবং আরবদের ইতিহাস বোঝো না।" শেষপর্যন্ত ইরাক ছেড়ে চলে যেতে হল মার্কিন সেনাদের।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা, দিল্লিতে শুরু I.N.D.I.A ব্লকের বৈঠক

এরমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এরপরও সেখানে সক্রিয় থাকবে মার্কিন সংস্থাগুলি। দু'দশকের বেশি সময় ধরে চলা আমেরিকা-ইরাক সংঘাতপর্বে প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।