ভারত কোনভাবেই সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসবাদীদের মদতকারীদের সমর্থন করবে না। সীমান্তে যেভাবে জঙ্গি আক্রমণ বাড়ছে তা ভারতের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এই কারণেই ভারতের সহযোগী দেশ যদি এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে বলে কার্যত আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনের পর নয়া দিল্লি ও বেজিং এর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং ভারত আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে করা মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। নিউইয়র্ক এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত একটি আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। এখানে আমেরিকার সঙ্গে শুল্কনীতি নিয়ে মতপার্থক্য থেকে শুরু করে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গ তুলে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিদেশপন্ত্রী অকপটে জানান, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারত আমেরিকার সম্পর্ককে দেখা প্রয়োজন। বিশ্বের একাধিক দেশের সঙ্গী আমেরিকার সম্পর্ক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতও ব্যতিক্রমী নয়। এরপর সীমান্ত সন্ত্রাস প্রসঙ্গ তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন এটি ভারতের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ভারতের সহযোগী দেশগুলি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে পারে। 

ঠিক যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ নিবিড় হচ্ছে তখন ভারতের বিদেশ মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি হোয়াইট হাউজের সঙ্গে নয়া দিল্লির সম্পর্ক মজবুত করবে? জয়শঙ্করের মন্তব্য, বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতিতে সেটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ঠিকই তবে বিষয়টি খুব একটা সহজ নয়। আমেরিকার ৩০১ সেকশন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে পাশাপাশি আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতিতে বেশ কিছু বিষয় পুনরায় আলোচনা করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি ঠিক কোন পর্যায়ে চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আমেরিকার পাক ঘনিষ্ঠতা ভারত যে ভালো চোখে দেখছে না, সেটা বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে বেশ স্পষ্ট।।