বাংলার লোকশিল্পের (Folk Art of Bengal) পরিসর এখন আর আটকে নেই বাংলার মাটিতে। পুরুলিয়ার ছৌ থেকে বাংলার কারুশিল্প ঐতিহ্যের এই সম্পদই ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তারই সাম্প্রতিক নজির দক্ষিণ কোরিয়ার (South Korea) জিনদো আন্তর্জাতিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্মেলন ও উৎসব (Jindo International Intangible Cultural Heritage Conference and Festival)। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে বাংলার ছৌও পেল নিজস্ব জায়গা। ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজনে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, মঙ্গোলিয়া, চিন ও ইন্দোনেশিয়ার শিল্পীরা অংশ নেন।

জিনদোর মঞ্চে বাংলার উপস্থিতির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল আন্তঃদেশীয় শিল্পের মেলবন্ধন। পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীদের পরিবেশনার সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার শিল্পীদের কণ্ঠসঙ্গীত জুড়ে তৈরি হয় বিশেষ যৌথ পরিবেশনা। ছৌয়ের তীব্র ছন্দ, শক্তিশালী অঙ্গসঞ্চালন এবং মঙ্গোলিয়ার নিজস্ব গানের ধারার সংমিশ্রণে তৈরি হয় ভিন্ন স্বাদের একটি পরিবেশনা। আটজন পুরুলিয়ার শিল্পীর এই সফর তাই শুধুমাত্র একটি নৃত্য পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তৈরি করেছে অন্য সংস্কৃতির শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও।

আন্তর্জাতিক এই মঞ্চকে ঘিরে বাংলার সঙ্গে জিনদোর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও হয়েছে। জিনদো কাউন্টি এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে সমঝোতাপত্র। ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সহযোগিতার পাশাপাশি দুই অঞ্চলের শিল্পীদের পারস্পরিক শেখার ক্ষেত্র তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে এতে। সফরের সময়ে ভারতীয় শিল্পীরা জিনদোর ঐতিহাসিক স্থান, সংগ্রহশালা ও কারুশিল্প কেন্দ্র ঘুরে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হন।

শুধু ছৌ নয়, একইসঙ্গে বাংলার কারুশিল্পকেও আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলার শিল্পীদের কাজ আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তৈরি হয়েছে ডিজিটাল সহায়িকা, যার কাজে সহযোগিতা করেছে ইউনেস্কোর সহযোগী সংস্থা SASA। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেটি বিতরণ শুরু হয়েছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার এই আয়োজন বাংলার জন্য হয়ে উঠেছে দু’দিকের সেতু। একদিকে বিদেশের মাটিতে ছৌয়ের পরিচিতি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলার শিল্প ও কারুশিল্পকে আরও দূরে পৌঁছে দেওয়ার নতুন সুযোগ।