রোহিঙ্গা, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার মঞ্চে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ইস্যু তুলে ধরলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister of Bangladesh Tarique Rahman)। একই সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Pakistan's Prime Minister Shehbaz Sharif) সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। তবে ভারতের আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসের আউটরিচ বৈঠকে বাংলাদেশের যোগ না দেওয়ার বিষয়টি আলাদা করে নজরে এসেছে।

রাষ্ট্রসংঘে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণে দেশের অতীত ও বর্তমান—দুইয়েরই উল্লেখ করেন তারেক। মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরণ করার পাশাপাশি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত’ হয়েছে। এরপর দেশের পুনর্গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রকে ফের স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। নিউ ইয়র্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাবা জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) এবং মা খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য রাখার পুরনো প্রসঙ্গও স্মরণ করেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমস্যাই ছিল তাঁর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের আশ্রয়ের কারণে বাংলাদেশের উপর বাড়তে থাকা চাপের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপদে মায়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা ছাড়া সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘ-সহ আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের বাইরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানও সামনে আসে শাহবাজ-তারেক বৈঠকে। দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। ফলে একদিকে ভারতের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও ব্রিকসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক তারেকের নিউ ইয়র্ক (New York) সফরে দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।