জার্মানির (Germany) সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে  রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে প্রধানমন্ত্রী চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎস। রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে জয়ী হয়েছে কট্টর-বামপন্থী দল 'ডি লিঙ্কে', এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কট্টর-ডানপন্থী  অর্থাৎ হিটলারপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দুই প্রান্তে দুই বিপরীত ধারার এই জয় জার্মানিকে মূলধারার রাজনীতিকে এক নজিরবিহীন সংকটের সম্মুখীন করেছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি! জাপানের বিরুদ্ধে ২ রানে জিতে মানরক্ষা শ্রেয়সদের

জার্মানিতে (Germany) ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দিচ্ছে আডল্‌ফ হিটলারের চিন্তাধারা। তবে এ বার আর ইহুদি বিদ্বেষ নয়। মুসলিম শরণার্থী সমস্যা, বেকারত্ব এবং রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। চরম দক্ষিণপন্থীদের এ-হেন বাড়বাড়ন্তে আতঙ্কিত পশ্চিম ইউরোপ। অন্য দিকে, এই ঘটনায় মস্কোর মুখে হাসির যে চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

বার্লিনে ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ডি লিঙ্কে। তবে ১৯৯০ সালে জার্মানির একত্রীকরণের পর প্রথমবারের মতো মেয়রের দফতর নিজেদের দখলে নিতে হলে তাদের জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই শহরে চ্যান্সেলর মার্ৎসের রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) পেয়েছে মাত্র ১৮.৮ শতাংশ ভোট। ১৬.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এএফডি, আর গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৪.৩ শতাংশ। অন্যদিকে কেন্দ্র-বাম সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা (এসপিডি) মাত্র ১২.১ শতাংশ ভোট পেয়ে বার্লিনের ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের মুখোমুখি হয়েছে। 

ঐতিহাসিক জয়ের পর তুর্কি বংশোদ্ভূত ডি লিঙ্কের শীর্ষ প্রার্থী এলিফ এরালপ বলেন, "আমাদের শহরে ঘৃণাকে পিছনে ফেলে ভালোবাসা আর ন্যায়বিচার জয়ী হয়েছে।"

এরপর সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায়। সেখানে ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে টানা দ্বিতীয় রাজ্যে জয় নিশ্চিত করেছে এএফডি। তীব্র লড়াই করে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসপিডি পেয়েছে ৩৫.৫ শতাংশ ভোট। কিন্তু সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে চ্যান্সেলরের দল সিডিইউ-এর। মাত্র ৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দলটি রাজ্য পার্লামেন্টে প্রবেশের ন্যূনতম ৫ শতাংশের শর্ত পূরণ করতেও ব্যর্থ হয়েছে। 

৮১ বছরের ইতিহাসে এই রাজ্যে সিডিইউ-এর এটিই সবচেয়ে শোচনীয় পরাজয়। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডি-র কাছে হেরেছিল সিডিইউ, যার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন আঘাত এল।

আরও পড়ুন: Asian Games: শ্রীলঙ্কাকে হেলায় হারালেন স্মৃতিরা, মহিলাদের হাত ধরেই প্রথম সোনা ভারতের

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সাম্প্রতিক সময়ে জার্মান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ 'বুন্দেসটাগ'-এ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে এএফডির জনপ্রতিনিধির সংখ্যা। ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারিতে হওয়া শেষ নির্বাচনে সেখানকার ৬৩০-এর মধ্যে ১৫২টি আসন দখল করে তারা, শতাংশের নিরিখে যা ২৪.১। ফলে বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে হিটলারপন্থী অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচলান্ড।