রিয়াধ থেকে দাম্মাম—সৌদির একাধিক এলাকায় হামলার অভিযোগ, কিং খালিদ বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর! নিরাপত্তার কারণে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনকে? পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে বাড়ছে জল্পনা।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আঁচ এবার সৌদি আরবের রাজপরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনকে নাকি বারবার এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে অবহিত আধিকারিকদের সূত্রে এমনই দাবি সামনে এসেছে। যদিও এই বিষয়ে সৌদি প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্পষ্ট নয়।
৪১ বছরের ক্রাউন প্রিন্সকে শেষবার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল গত মঙ্গলবার, একটি রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে। তারপর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে এমন কয়েকটি সুরক্ষিত প্রাসাদে রাখা হচ্ছে, যেখানে রয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার। যুবরাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন বিশেষভাবে বাছাই করা রক্ষীরা। তবে তাঁর অবস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই দাবিগুলি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য সামনে আসেনি।
শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধ-সহ একাধিক এলাকায় হুথিদের হামলার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবরের পাশাপাশি বিমানবন্দরের কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার কথাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হামলার জবাবে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছে রিয়াধ। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সলমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হামলা বন্ধ না হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপে আমেরিকা যোগ দেবে কিনা, তা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে তাদের মিত্র দেশগুলিও। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের তৎকালীন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে সামরিক অভিযানে যোগ দিয়েছিল সৌদি আরব। সেই সময় থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ চলেছে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে।
এরই মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আবহ গোটা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে তেহরানের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন তেহরান। তাঁর বক্তব্য, এই সংঘাতের পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত লাভবান হতে পারে ইজরায়েল। অর্থাৎ, হুথি-সৌদি সংঘাতকে শুধু আঞ্চলিক সংঘর্ষ হিসেবে দেখছে না ইরান; এর সঙ্গে বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরব ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধান এবং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর পক্ষেও বার্তা দিয়েছে তেহরান।















