২০২৬ সালের অর্থনীতিতে নোবেল (Nobel Economics Prize) পুরস্কার পেলেন রবার্ট ই. হল এবং মাইকেল উডফোর্ড। কোনও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবেই এই দুই আমেরিকান অর্থনীতিবিদকে এই পুরস্কার দিয়েছে ‘রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’। নোবেল কমিটির মতে, তাঁদের এই উদ্ভাবনী মডেল নতুন করে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: ফের হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় নিখোঁজ ২ ভারতীয়! কড়া পদক্ষেপের দাবি দিল্লির

সমষ্টিগত অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার তত্ত্ব তথা নীতির রূপরেখা তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই রবার্ট এবং মাইকেলকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।  রবার্ট ও মাইকেলের তৈরি সমষ্টিগত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল সমাজে অর্থনীতিক স্থিতিশীলতা আনতে কিংবা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই সঙ্গে তাঁদের গবেষণা বিশেষভাবে সময়োপযোগীও। রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং বিশেষ মুদ্রানীতি গ্রহণ করে দেশের অর্থনৈতিক মন্দাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব- এমনটাই দাবি করেছেন এই দুই অর্থনীতিবিদ।

১৯৭০ সালে বিশ্ব জুড়ে অশোধিত তেল সঙ্কটের সময়ে ডুবে যাওয়া অর্থনীতি, উচ্চ বেকারত্ব ও লাগামছাড়া আর্থিক মন্দার কারণে প্রচলিত অর্থনৈতিক মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতাকেই নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে রবার্ট ও মাইকেলের গবেষণা বিশেষ অবদান রেখেছে। তাঁরা উৎপাদন ও ভোগের পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের পরিবর্তে পরিবার ও বহুজাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার নিরিখে অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করেন। মানুষের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা এবং সরকারি নীতির প্রভাব তাঁদের গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই মডেল অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় বিশেষ ভাবে সহায়ক।

১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ডিনামাইটের উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে তাঁর উইলে যে পাঁচটি পুরস্কারের কথা উল্লেখ করেছিলেন, অর্থনীতির পুরস্কার এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক পরবর্তীকালে এই পুরস্কার চালু করে। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১০ কোটির কাছাকাছি।

এখনও পর্যন্ত অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের অধিকাংশই আমেরিকার নাগরিক। মাত্র তিনজন মহিলা এখনও পর্যন্ত এই পুরস্কার পেয়েছেন। শেষ ২০২৩ সালে পুরস্কার পান ক্লডিয়া গোল্ডিন। আমেরিকার সময়ের সঙ্গে মজুরি ও কর্মসংস্থানে মহিলা-পুরুষের পার্থক্য কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়। 

রাশীয়া

আরও পড়ুন: ল্যাবে ভাঙল টেস্টটিউব! প্লেগের জীবাণু ছড়িয়ে আতঙ্ক রাশিয়ায়

গত বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন জোয়েল মোকির, ফিলিপ অ্যাঘিওন এবং পিটার হাউইট। পুরনো প্রযুক্তিকে দূরে ঠেলে নতুন নতুন আবিষ্কার কীভাবে একটি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দিতে পারে, তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল তাঁদের গবেষণায়।