আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্নে ধাক্কা! ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আটটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার পার্ম (PERM) প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ভারতের টিসিএস (TCS), ইনফোসিস (Infosys), উইপ্রো (Wipro), এইচসিএল (HCL) এবং কগনিজ্যান্ট (Cognizant)। পাশাপাশি রয়েছে আমেরিকার ক্যাপজেমিনি (Capgemini), মাইক্রোসফ্ট (Microsoft) ও অ্যাডোবি (Adobe)।

আরও পড়ুন: মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে দেহ খুবলে খেল ইঁদুর, শুরু তদন্ত

আমেরিকায় চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পেতে পার্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নতুন আবেদন জমা দেওয়া যাবে না। আগে জমা পড়া আবেদনগুলির প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত থাকবে। ফলে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বহু বিদেশি কর্মীর আবেদন পেতে দেরি হতে পারে। বিশেষত ভারতীয় পেশাদারদের ক্ষেত্রে উদ্বেগ বেশি, কারণ তাঁদের গ্রিন কার্ড পেতে এমনিতেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সমস্ত বিদেশি কর্মীর ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টা সহায়তা, বাহিনীতে ৪৫০ গাড়ি: পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়নে মহালয়ায় গুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগের অপব্যবহারের ফলে আমেরিকার নাগরিকরা চাকরি হারাচ্ছেন। এইচ-১বি ভিসায় (H-1B visa) বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও। মাইক্রোসফ্টের উদাহরণ দিয়ে তাঁর অভিযোগ, ২০২৫ সালে প্রায় ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার পরেও সংস্থাটি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেছে।

এদিকে, টিসিএস জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশের ফলে তাদের কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বা গ্রাহক পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছে না। গত দু’বছরে সংস্থাটির পার্ম আবেদনের সংখ্যা এক অঙ্কের মধ্যেই ছিল বলেও জানিয়েছে তারা। আগামী পাঁচ বছরে আমেরিকায় আরও ১৫ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে টিসিএসের।

অন্যদিকে, আমেরিকার নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকদের জন্য চালু জে-১ ভিসা কর্মসূচি নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়। পার্ম প্রক্রিয়া কত দিন বন্ধ থাকবে, তার উপরই নির্ভর করছে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের ভবিষ্যৎ।