জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানী। একের পর এক রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সমর্থককে আটক করছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লিকে। বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়ে প্রতিবাদীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একের পর এক নেতাদের আটক করার ফলে যখন ভাবা হচ্ছিল প্রতিবাদ থেমে যাবে তখনই হঠাৎ করে পথে নামলেন নেহা বোরা (Neha Bora)।

শনিবার দুপুরে সেই ছবিই সামনে এল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মিছিল ঘিরে। যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর পথ বন্ধ থাকায় বিকল্প প্রতিবাদস্থল হিসেবে দিল্লি হাটে জমায়েতের ডাক দিলেন তিনি। সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে পথে নামেন নেহা। স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে চলে মিছিল। পথে ব্যারিকেডের মুখে পড়লেও তা সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেহাকেও আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁকে আটক করার সময় প্রিজন ভ্যান ঘিরে ঘরে সাধারণ মানুষেরা। তাঁদেরকেও আটক করে দিল্লি পুলিশ।  

আরও পড়ুন: চূড়ান্ত দমন! শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে গ্রেফতার মমতা, প্রিজন ভ্যানে করে ঘোরচ্ছে দিল্লি পুলিশ! ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল দলের নেতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijit Deep)। কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছনোর পরেই সিজেপির তিন নেতা দিপকে, রাঙ্কা এবং সৌরভকে প্লেনের ভিতর থেকেই আটক করে পুলিশ। প্রথমে তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে জানা না গেলেও পরে জানা যায় অভিজিৎ দিপকে কে গুরুগ্রামে, রাঙ্কাকে দ্বারকায় এবং সৌরভকে দিল্লিতে আটক করে রাখা হয়েছে।

একের পর এক নেতাদের আটক করার পর এবার মিছিল নিয়ে পথে নামেন নেহা বোরা। যন্তর মন্তরে যেতে বাধার মুখে পড়ে বিক্ষোভের জায়গা বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিল্লি হাটে সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান নেহা। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে আন্দোলনের ছবিও তুলে ধরেন তিনি। সমাজমাধ্যমে তাঁর বার্তা, “দিল্লি হাটই আজকের যন্তর মন্তর। আমরা আসছি।” 

এদিকে, দিল্লিতে একের পর এক বাম নেতাদেরও আটক করার হয়েছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, প্রতিবাদে যোগ দিতে চাওয়া নেতাদের বিভিন্ন জায়গায় আটকে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ঘিরে ধরে সেখান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানা সীমান্তের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। সুজনের বক্তব্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, রামচন্দ্র ডোম, জিতেন চৌধুরী, রামকৃষ্ণন এবং সুদীপ-সহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছাত্রদের উপর আক্রমণ এবং রাস্তায় প্রতিবাদীদের আটক করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। সুজনের কটাক্ষ, “৫৬ ইঞ্চি ভয় পেয়ে গিয়েছে।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করতে হচ্ছে, আর প্রতিবাদীদের আটক করে আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই আন্দোলন থামবে না। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তির পাশাপাশি তাঁর পিছনে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ চলবে।

আরও পড়ুন: মাত্র ১ টাকায় পাতে বিরিয়ানি-মিষ্টি! মহালয়া থেকেই কলকাতায় শুরু ‘আহার ক্যান্টিন’

বামেদের ধরপাকড়ের তালিকায় রয়েছেন আরও একাধিক পরিচিত মুখ। সিপিএম নেত্রী মীণক্ষি মুখোপাধ্যায়, সৃজন ভট্টাচার্য- সহ একাধিক নেতারাও পথে নেমেছিলেন। সেইখান থেকে সৃজনকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মীণক্ষিকে দিল্লির একটি স্টেডিয়ামে আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং বাম নেত্রী বৃন্দা কারাটকেও আটক করা হয়েছে। এসএফআই-সহ বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও পুলিশের অভিযানের মুখে পড়েছেন। দিল্লি পুলিশ প্রায় ৪০০ বাম কর্মীকে আটক করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, সারা দেশে মানুষ প্রতিবাদে নামতে চাইছেন, অথচ তাঁদের চলার পথ আটকে দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তাই দিয়েছে বাম নেতৃত্ব।

সব মিলিয়ে, দিল্লিতে শনিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়েছে। একদিকে যন্তর মন্তর ঘিরে কড়া পুলিশের নিরাপত্তা ও ধরপাকড়, অন্যদিকে বিকল্প জায়গায় জমায়েত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। সিজেপি নেতাদের আটকের পরেও নেহা বোরার মিছিল নতুন করে প্রতিবাদের জায়গা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বাম নেতাদের আটক করার অভিযোগে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এসআইআর বাতিল এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।