তারিখ পে তারিখ, তারিখ পে তারিখ, তারিখ পে তারিখ- জনপ্রিয় হিন্দি ছবিতে সানি দেওলের মুখে এই সংলাপই বোধহয় এখন উপযুক্ত দলবদলু NCPI-এর সাংসদদের জবাবি চিঠির ক্ষেত্রে। কোন দলে আছেন- সেটা জানাতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কুড়ি সাংসদ সময় চেয়েই চলেছেন, আর সময় তিনিও তাঁদের সময় দিয়েই চলেছেন। এনসিপির ২০ সাংসদকে ফের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিলেন লোকসভার স্পিকার।
বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একে একে মমতা শিবির ত্যাগ করেন ২০ লোকসভা সাংসদ (Lok Sabha)। তালিকায় আছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghoshdasti), শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী (দেব), সায়নী ঘোষ, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, অরূপ চক্রবর্তী, বাপি হালদার, মোহাম্মদ আবু তাহের খান, কালীপদ সরেন খেরওয়াল, অসিত কুমার মাল, মিতালী বাগ, খলিলুর রহমান, মালা রায় এবং শর্মিলা সরকার। দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে তাঁরা যোগ দেন অখ্যাত NCPI দলে। কিন্তু সেই দলকে এখনও স্বীকৃতি দেননি ওম বিড়লা (Om Birla)। ফলে কাকলিরা অধিবেশন বক্তব্য রাখলে সংসদ টিভি-তে তাঁদের নামের পাশে তৃণমূল (TMC) সাংসদ লেখা হচ্ছে। অথচ তাঁদের দাবি মেনে অধিবেশন কক্ষে তৃণমূল সাংসদদের বসার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০ সাংসদের বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কেন তাঁদের সাংসদপদ বাতিল করা হবে না? কেন দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়বেন না? প্রশ্ন তুলে প্রথমে লোকসভার অধ্যক্ষ ও পরে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানান তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক। সুপ্রিম নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের নোটিশ দিতে শুরু করেন ওম বিড়লা। কিন্তু নিজেদের অবস্থান আর জানিয়ে উঠতে পারছেন না দলবদলুরা।
বারবার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও জবাব না দিয়ে আরও সময় চান সুদীপ-কাকলিরা। সেই আবেদন মঞ্জুরও করেন ওম বিড়লা। জবাব দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর করেন তিনি। এর পরেই এদিন সরাসরি তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদকে নিজেদের অবস্থান জানাতে নোটিশ পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। স্পিকারের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদেরা। স্পিকার তাঁদের চিঠি দিয়ে জানান, দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে। বৃহস্পতিবার সেই দু’সপ্তাহের মেয়াদ শেষ। ফের সময়বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠান সুদীপ, কাকলিরা। আর ফের এনসিপির ২০ সাংসদকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিলেন লোকসভার স্পিকার। আর এর পরে রাজনৈতিক মহলের একাংশের টিপ্পনি- তারিখ পে তারিখ।















