সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও সম্প্রতি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। এক 'তরুণী' পরনে সাধারণ নীলচে-সবুজ শাড়ি, কোমরে আঁচল শক্ত করে গোঁজা, আর পায়ে নেই কোনও জুতো। এই অবস্থাতেই তপ্ত মাটির ট্র্যাকে বুলেটের গতিতে দৌড়াচ্ছেন তিনি। পাশে আধুনিক ট্র্যাকসুট ও রানিং শু পরা অন্যান্য প্রতিযোগীদের অনায়াসে পেছনে ফেলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে গেলেন তিনি। এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য এক চরম বাস্তব লড়াই। (যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ)

আরও পড়ুন: জিতের জন্য মেগা শর্ত দেবের! রাজি হলে জুটিতে ফিরবেন শুভশ্রীও? ‘দেশু ৭’–এর ট্রেলার মঞ্চে জোর জল্পনা

লড়াকু এই তরুণীর নাম কবিতা কুমারী মাহাতো। ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী এই ‘তরুণী’ একাধারে এক বিধবা মা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিন বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে কবিতার কাঁধে। অভাবের সংসারে দুবেলা অন্ন জোগাতে তিনি বর্তমানে একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন।

রামগড় জেলায় হোমগার্ড নিয়োগের জন্য সিধু-কানহু স্টেডিয়ামে একটি শারীরিক সক্ষমতার ট্রায়াল রানের আয়োজন করা হয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মহিলা প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১০ মিনিটে ১,৬০০ মিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য ছিল।

আরও পড়ুন: ফের ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয় ভবন পরিদর্শনে দমকলের আধিকারিকরা

দারিদ্র্যের কারণে যেখানে ভালো পোশাক বা রানিং জুতো কেনার সামর্থ্য নেই, সেখানে কবিতা কোনো বাহানার আশ্রয় নেননি। তিনি তাঁর সাধারণ শাড়ি এবং খালি পা নিয়েই ট্র্যাকে নেমে পড়েন। যখন দৌড় শুরু হয়, তখন তাঁর অদম্য জেদের কাছে হার মানে সমস্ত প্রতিকূলতা। নির্ধারিত ১০ মিনিটের লক্ষ্য তিনি মাত্র ৬ মিনিটে শেষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।

 

রামগড়ে হোমগার্ডের মোট ২৮৪টি পদের জন্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য এবং বিশেষ করে বিধবা ও বিবাহবিচ্ছিন্না নারীদের জন্য অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। কবিতা জানান, ভোর ৪টেয় উঠে সংসার ও সন্তানদের সামলে তিনি প্রতিদিন শাড়ি পরেই দৌড়ানোর অনুশীলন করতেন। কারণ তাঁর কাছে এই পরীক্ষাটি শুধু একটি চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়া এবং পরিবারকে অনাহার থেকে বাঁচানোর একমাত্র পথ।

আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিয়োগের চূড়ান্ত শারীরিক সক্ষমতা ও লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নেটনাগরিকদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়া একাডেমি ও সাধারণ মানুষ কবিতার এই হার না মানা মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এবং তাঁর চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছেন।