অন্তত ১০ জন ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ। সেই অভিযোগের তদন্তের পর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) থেকে বরখাস্ত করা হল অধ্যাপক (Professor) তথা কংগ্রেস সাংসদ আংগোমচা বিমোল অকোইজামকে (Angomcha Bimol Akoijam)। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মণিপুর (Manipur) থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন অকোইজাম।

আরও পড়ুন: জঙ্গিকে ‘শহিদ’ তকমা! PDP নেতার মন্তব্যে কাশ্মীরে বিতর্কের ঝড়

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখেছে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশ মেনেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জেএনইউয়ের স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধীন সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ সোশ্যাল সিস্টেমসের অধ্যাপক ছিলেন অকোইজাম। প্রায় এক মাস আগে তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অন্তত ১০ জন ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগকারিণীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে নিজের বাসভবনে বিভিন্ন আড্ডা ও জমায়েতে ছাত্রীদের আমন্ত্রণ জানাতেন ওই অধ্যাপক। সেখানে তাঁদের উদ্দেশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, ক্লাস চলাকালীনও তিনি অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করতেন বলে অভিযোগ করেন কয়েক জন ছাত্রী। প্রাথমিক অভিযোগ সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েক জন ছাত্রী একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

অন্যদিকে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন অকোইজাম। তাঁর দাবি, মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটি চক্রান্তকারী গোষ্ঠী তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে আভ্যন্তরীণ তদন্তের পর অবশেষে জেএনইউ-র চাকরি খোয়াতে হল আকইজামকে। অধ্যাপনার পাশাপাশি বর্তমানে লোকসভার সদস্য অকোইজাম। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মণিপুর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি।