দুর্গাপুজোর আগে শহর ও জেলার সমস্ত পুর এলাকা পরিচ্ছন্ন, আলোকিত ও নিরাপদ রাখতে একগুচ্ছ নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নগরোন্নয়ন ও পুর দফতরের পর্যালোচনা বৈঠকে রাস্তা মেরামত থেকে ডেঙ্গি প্রতিরোধ, গঙ্গার ঘাটে নিরাপত্তা, কর্মীদের বেতন ও পুজোর প্রস্তুতি-সব ক্ষেত্রেই দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: 'N-GEN' পোস্ট অফিসে জোর, তরুণদের টানতে কফি কর্নার থেকে ওয়াই-ফাই
বৈঠকে জানানো হয়েছে, পুজোমণ্ডপে যাওয়ার অধিকাংশ রাস্তার সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ আগামী তিন দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। ১৩ অক্টোবরের মধ্যে বিকল রাস্তার আলো বদলানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পুরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার এবং শহরের নোংরা এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মহালয়ার তর্পণ এবং দুর্গাপুজো উপলক্ষে গঙ্গার ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন, নদী পুলিশ ও উপকূল পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনে ক্রেন ব্যবহার না করে ধর্মীয় রীতি মেনে বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এনকেডিএ, কেএমডিএ, হিডকো-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নিজেদের তহবিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থলে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। শপিং মল, আবাসন ও সমবায়গুলিকেও আলো ও পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুজোর আগে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে পুরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমস্ত কর্মীর বেতন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বকেয়া রাখা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের জন্য বিশেষ বোনাসের বিষয়টিও বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর বকেয়া বিলের অন্তত ৩০ শতাংশ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২৪টি পুরসভা ও পুরনিগমে ৩,৩৪৯টি রাস্তার জন্য ৮৫১.৭৯ কোটি টাকা এবং ১১টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১০৬টি রাস্তার জন্য ৭২.২৯ কোটি টাকার প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিতে কেএমডিএ-কে ২৪.৬৮ কোটি টাকার ৩৩টি প্রকল্পের অনুমোদনও মিলেছে।
আরও পড়ুন: 'ভোট চোর' বলায় মহুয়াকে আইনি নোটিশ মুখ্যসচিবের! পোস্ট মোছার নির্দেশ
বৈঠকে পুরসভাগুলিকে ডেঙ্গি প্রতিরোধে নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিসর্জন সম্পন্ন করার জন্যও সব পুর সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।















