ভোট চুরি নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Draupadi Murmu) সঙ্গে বৈঠক করলেন ইন্ডিয়া (INDIA) শিবিরের নেতারা। রাত ৮টা নাগাদ প্রতিবাদ মিছিল করে বিরোধী শিবিরের ১০ জন নেতা সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে যান।
আরও পড়ুন: 'ভোট চোর' বলায় মহুয়াকে আইনি নোটিশ মুখ্যসচিবের! পোস্ট মোছার নির্দেশ
রাষ্ট্রপতি ভবনে যান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজীব রাই, এনসিপি(এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা এবং ভিসিকে নেতা। এছাড়াও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ আরও অনেকে।
শুক্রবার প্রায় ঘণ্টাখানেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর আশাবাদী বিরোধীরা। রাহুল থেকে মমতা- একসুরে বিরোধী শিবিরের দাবি, ভোটচুরির অভিযোগ উড়িয়ে দেননি রাষ্ট্রপতি। বরং তাদের কথা শুনেছেন এবং অভিযোগের সপক্ষে তথ্য প্রমাণ চেয়ে পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন ইন্ডিয়া-র নেতারা। তবে তবে বিরোধীরা যখন মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করছেন তখন বিজয় চকে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান বাকি বিরোধী সাংসদেরা। এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে কোনও বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে মমতা (Mamata banerjee) বলেন, ‘‘আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। আমরা রাষ্ট্রপতি ইতিবাচক মনোভাব দেখতে পেয়েছি। উনি আমাদের বলেছেন, বিষয়টা বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখবেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তার জন্য ওঁর প্রমাণের প্রয়োজন। আমাদের অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি এবং তথ্যপ্রমাণ জমা করতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি। আমাদের কাছে নথি-প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। আমরা পাঠাব বলে এসেছি। আমরা রাষ্ট্রপতিকে বলেছি, দেশে অত্যন্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে গণতন্ত্র রক্ষা করতে আপনার উচিত যথাযথ পদক্ষেপ করা। 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোট ঐক্যবদ্ধ ও অত্যন্ত শক্তিশালী; আমরা দেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি।"
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাহুল গান্ধী বলেন, "আমরা ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করি। সেই স্মারকলিপিতে আমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি যে, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছেন। আমাদের বক্তব্যের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কোনঅ দ্বিমত পোষণ করেননি, কোনো প্রশ্ন তোলেননি বা কোনো পাল্টা যুক্তিও দেননি। তিনি আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং জানান যে, 'নির্বাচনে কারচুপি'র প্রমাণ তাঁকে দিতে হবে। 'নির্বাচনে কারচুপি'র প্রমাণ তো সারা দেশের জানা। একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, অথচ রাষ্ট্রপতি চান আমরা যেন তাঁকে এর প্রমাণ জমা দিই। আমরা 'নির্বাচনে কারচুপি'র যে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি, রাষ্ট্রপতি যখনই তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত হবেন, তখনই এই একই প্রতিনিধিদল অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে তা তাঁর কাছে পেশ করবে।"
আরও পড়ুন: মোদি ২৫ বছরের উপহার! উত্তরপ্রদেশে বদলাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম! ঘোষণা যোগীর
কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, "আমাদের জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। ভোট চুরির বিষয়ে চার দিন আগে আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছি, সে সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতেই আমরা মূলত সেখানে গিয়েছিলাম এবং আমাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি। আমরা ভোট চুরির বিষয়টি এবং জ্ঞানেশ কুমারের করা গুরুতর ত্রুটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি। আমরা দাবি জানিয়েছি যে ইভিএম (EVM) বাদ দিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হোক। এছাড়া, তিনি ভোট চুরির ঘটনাগুলির বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছেন; আমরা বর্তমানে সেই প্রমাণাদি সংগ্রহ করছি এবং তা জমা দেব। পাশাপাশি আমরা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও প্রদান করব। সর্বোপরি, আমরা এই বিষয়টিও তুলে ধরেছি যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহ দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর এবং সেই লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং পরবর্তী উপযুক্ত পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।"















