সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপনির্বাচনের (By- Election) ফলাফলেও দেখা গেল সেই আহ্বানেরই প্রতিফলন। নন্দীগ্রাম (Nandigram) থেকে রেজিনগর (Rejinagar), দুই কেন্দ্রের ফল সামনে রেখে তেমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিজেপির (BJP) প্রতি সংখ্যালঘুদের আস্থা বাড়ছে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতেই ভরসা রাখছেন তাঁরা। এমনটাই মত শুভেন্দুর। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু জয়ের ব্যবধান নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ১ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ (Hasirani Rath)। নজর কেড়েছে রেজিনগরের ফলও। এক সময় যে কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা কার্যত ছিল না, সেখানেই বড় ব্যবধানে জিতেছে গেরুয়া শিবির। গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার (Shankharavh Sarkar Official) ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটে জয়লাভ করেন। 

আরও পড়ুন: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা? ৫৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধের প্রস্তাব! সুপ্রিম হস্তক্ষেপে দিল্লি হাই কোর্টে জরুরি শুনানির ইঙ্গিত

শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিজেপি সম্পর্কে যে ভয় তৈরি করা হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু গত পাঁচ মাসে সরকারের কাজকর্ম দেখে সংখ্যালঘুদের একাংশ সেই ধারণা থেকে সরে এসেছেন বলে দাবি শুভেন্দুর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাঙালি মুসলমানদের বেশির ভাগই রাজ্যের উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চাইছেন।” এবার ৪৫ শতাংশ মুসলিম ভোট এসেছে বিজেপিতে। আগামী দিনে মুসলমানদের সমর্থন নিয়ে বিজেপি ৬০ শতাংশ ভোট পাবে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে মুসলিম মহিলারাও উপকৃত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

আরও পড়ুন: পরিবেশবান্ধব পুজো করলেই পুরস্কার, সেরার শিরোপায় মিলবে ১ লক্ষ: ঘোষণা পুরমন্ত্রীর

নির্বাচনী বিধির কারণে এ দিন সরকারি হেলিকপ্টারে রেজিনগরে যেতে পারেননি শুভেন্দু। তবে নারকেলবাড়ি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে শীঘ্রই সেখানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে আগামী কয়েক বছরের রাজনৈতিক লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এ বছর কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভা নির্বাচন, আগামী বছর ১১০টি পুরসভার ভোট, ২০২৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি আসনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উপহার দিতে চায় বিজেপি। সব মিলিয়ে, দুই কেন্দ্রের ফলকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটে নিজেদের জমি শক্ত করার বার্তাই দিল বিজেপি।