উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও পালন করুক দুর্গাপুজো কমিটিগুলি। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবকে ঘিরে নতুন পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। ‘সবুজ দুর্গাপুজো উৎকর্ষ সম্মান’-এর মাধ্যমে পরিবেশ সচেতন পুজো উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক পুরস্কারেও সম্মানিত করা হবে। রাজ্যস্তরে প্রথম স্থান দখলকারী পুজো কমিটির ঝুলিতে উঠবে এক লক্ষ টাকা।
আরও পড়ুন: সাধারণ মানুষের করের টাকায় পুজোর অনুদান! আদালতে দায়ের জনস্বার্থ মামলা
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক সাংবাদিক বৈঠকে এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ভাবনাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের ভূমিকা কতটা মূলত এই বিষয়গুলির উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশ রক্ষার কাজে পুজো কমিটিগুলির ভূমিকা বিচার করতে চারটি বিভাগ রাখা হয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে পুজোর আয়োজন, মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে মূল্যায়নে। পাশাপাশি, পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং জনকল্যাণমূলক কাজে কমিটিগুলির ভূমিকার জন্যও পৃথক সম্মানের ব্যবস্থা থাকছে। অর্থাৎ, শুধু চোখধাঁধানো মণ্ডপ কিংবা প্রতিমার বৈচিত্র্য নয়, উৎসবের আয়োজনের সঙ্গে পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে চলেছে এই প্রতিযোগিতায়।
আরও পড়ুন: একই বৃষ্টির অর্থ আলাদা! সাপ্তাহিক ‘কভি কভি’-তে আশাবাদী হওয়ার বার্তা হর্ষ নেওটিয়ার
সবুজ দুর্গাপুজো উৎকর্ষ সম্মানের জন্য মোট চারটি বিভাগে পুজো কমিটিগুলির কাজের মূল্যায়ন করা হবে।
শ্রেষ্ঠ গ্রিন দুর্গাপুজো: পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, দূষণ কমানোর উদ্যোগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
শ্রেষ্ঠ পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্য স্মার্ট পুজো: পুজোমণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা, আবর্জনা পৃথকীকরণ এবং সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এই বিভাগে।
শ্রেষ্ঠ সচেতনতা উদ্যোগ:পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণকারী পুজো কমিটিগুলি এই সম্মানের জন্য বিবেচিত হবে।
কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ড: পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, জনকল্যাণমূলক কাজ এবং সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য দেওয়া হবে এই পুরস্কার।
চারটি বিভাগেই পুজো কমিটিগুলির উদ্যোগ ও কাজের মূল্যায়ন করে সেরাদের বেছে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পুজোর জাঁকজমকের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।
শুধু টাই নয় পুরস্কারের অঙ্কও যথেষ্ট আকর্ষণীয়। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় প্রথম হলে পাওয়া যাবে এক লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর জন্য ৮০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ৫০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত সেরা পুজো কমিটিকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় জেলার পুজো উদ্যোক্তারাও নিজেদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। বড় বাজেটের পুজোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেওয়া কমিটিগুলিও স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পাবে।
কীভাবে আবেদন করতে হবে টাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে পুজো কমিটিগুলিকে বিশেষ ‘গ্রিন দুর্গাপুজো ইভ্যালুয়েশন অ্যাপ’ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর মাধ্যমেও আবেদন করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় দুই হাজার পুজো কমিটি এই সম্মানের জন্য আবেদন করেছে বলে খবর। আবেদন জমা পড়ার পর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলির উদ্যোগ খতিয়ে দেখবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে।
তবে এ বারের উদ্যোগের পরিধি শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুজোমণ্ডপে বিশেষ স্টল তৈরি করে দর্শনার্থীদের হাতে চারা গাছ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কাজে পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। সেই জনসমাগমকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উৎসবের মঞ্চ থেকেই পরিবেশ রক্ষার বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।















