সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikash Ranjan Bhattacharya) বাড়িতে হামলার ঘটনায় হিন্দুত্ববাদীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন তিনি। আর সেই বক্তব্যের বিরুদ্ধেই এবার সরব খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এভাবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করে গোটা সনাতনী হিন্দু সমাজকে অপমান করেছেন বিকাশরঞ্জন। তাই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পাশাপাশি আইনজীবীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু। শুক্রবার নবান্ন থেকে বিকাশরঞ্জনকে কার্যত কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পোস্টটি সরানোর কথা বলেন তিনি, অথবা পোস্ট থেকে 'হিন্দুত্ববাদী' শব্দটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা না করা হলে, প্রশাসন ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পোস্টটি মুছে ফেলবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: বকেয়া সম্পত্তি করে বিপুল ছাড়! কলকাতার করদাতাদের জন্য বড় ঘোষণা পুরসভার
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, হামলার ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ তদন্ত চালাবে। ইতিমধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে বিকাশরঞ্জন কীসের ভিত্তিতে সমাজমাধ্যমে হিন্দুত্ববাদীদের দায়ী করলেন, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। গেরুয়া শিবির, সনাতন ধর্ম, হিন্দুত্ব ও রাষ্ট্রবাদীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: রাত আটটায় ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতির, ‘সময়’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কুণাল
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। ইএম বাইপাসের কাছে পূর্বালোকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। বাম নেতার দাবি, বাইকে চেপে কয়েক জন যুবক তাঁর বাড়ির সামনে আসে। তাঁদের মুখ ঢাকা ছিল। বাইকের নম্বর প্লেটও কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও মদের বোতল ছোড়া হয়। ভেঙে যায় জানলার কাচও। এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন বিকাশরঞ্জন।
ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে সরব হয়ে হামলার পিছনে হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ইতিমধ্যে বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বাড়িতে হামলার ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।















