বছরের পর বছর সম্পত্তি কর (Property Tax) বকেয়া, একসঙ্গে পুরো টাকা মেটাতে গিয়ে সুদ আর জরিমানার বোঝা বাড়ছে। কলকাতার এমন করদাতাদের জন্য এবার  বিশেষ ছাড়ের সুযোগ নিয়ে এল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। পুরনো বকেয়া আদায়ে নতুন করে ‘ওয়েভার স্কিম’ চালু করল পুর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রকল্পের কথা জানান পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে (Smita Pandey)। আপাতত ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এই সুবিধা মিলবে। প্রয়োজনে আরও দু’মাস সময় বাড়ানোর কথাও বিবেচনা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: রাত আটটায় ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতির, ‘সময়’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কুণাল

পুরসভার হিসাব বলছে, সম্পত্তি কর বাবদ শহরে বিপুল পরিমাণ টাকা এখনও বকেয়া। প্রায় ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮৮ জন করদাতার কাছে বকেয়া রয়েছে সম্পত্তি কর। তবে এই সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে মোট বকেয়ার অঙ্ক নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। মূল কর, সুদ এবং জরিমানার পৃথক হিসাব মিলিয়ে সঠিক মোট অঙ্ক স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এই বিপুল বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যেই নতুন করে ছাড়ের পথে হাঁটছে পুরসভা। প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৮৪ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যন্তর মন্তর ২.০র আগেই বাতিল হাওড়া-শিয়ালদহ রাজধানী

সব ধরনের সম্পত্তির জন্য একই হারে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে ওয়েভারে ১০০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। অন্য দিকে, নির্দিষ্ট শ্রেণির বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলতে পারে। বাড়িতে বসবাস করেন, নাকি সম্পত্তিটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়, তার উপরেও প্রযোজ্য শর্ত নির্ভর করবে। ফলে সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির শ্রেণি এবং ওয়েভারের নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।

কমিশনার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সুদের হিসাব ধরা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বকেয়া মিটিয়ে দিলে সুদ ও জরিমানার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পুরসভায় বারবার ঘোরার প্রয়োজন এড়াতে অনলাইন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে ওয়েভার স্কিমের সুবিধা নেওয়া যাবে। তবে অনলাইনে আবেদন করতে অসুবিধা হলে অফলাইনেও আবেদনের ব্যবস্থা থাকছে।

অন্যদিকে, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সম্পত্তি করের বকেয়া মেটাতে এই ছাড়ের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে শহরের করদাতাদের সুবিধা দিয়ে শাসকদল বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে চাইছে।