রাজ্য সরকারের সচিবালয়ের কর্মীদের (Secretariat Staff) অন্য দফতরে নিয়োগ বা বদলির (Transfer) ক্ষেত্রে এ বার আরও কড়া হল নবান্ন (Nabanna)। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অনুমোদন না নিয়ে সচিবালয়ের ‘কমন ক্যাডার’-এর কর্মীদের কোনও ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক দফতরে পাঠানো যাবে না। প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের ‘কমন ক্যাডার উইং’-এর লিখিত অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের পদক্ষেপ করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর থেকেও বেশি ব্যবধানে জয়ী হাসিরানি, রেজিনগরেও ফুটল পদ্ম! সংখ্যালঘুদের ভয় কাটছে: মুখ্যমন্ত্রী

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দফতরের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে সচিবালয়ের কমন ক্যাডারের কর্মীদের অন্যত্র নিয়োগ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ক্যাডার পরিচালন কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও প্রশাসনিক মহলে খবর। এ ভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে সরকারি কর্মী (Government Employee) পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

এই পরিস্থিতিতে অনিয়ম বন্ধ করতে প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের তরফে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য কোনও দফতরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তবে কাজের প্রয়োজনে কোনও কর্মীকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে নিয়োগ করার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

বদলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে কমন ক্যাডার উইংয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। ওই উইংয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অন্যত্র পাঠানো যাবে। এখান থেকেই স্পষ্ট যে, কোন কর্মী নিয়োগ বা বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে আর একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নবান্নের এই নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাছেও বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশিকা যাতে যথাযথ ভাবে কার্যকর হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি কর্মীদের বদলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম বজায় রাখা এবং ক্যাডার পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশের ফলে আগামীদিনে সরকারের বিভিন্ন দফতরের ইচ্ছেমতো কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমবে এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।