নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে (By-elections for the Nandigram and Rejinagar Assembly constituencies) বিজেপি জয়। দুই কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA Kunal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, ভোটদানে বাধা সৃষ্টি এবং বিরোধী কর্মীদের উপর চাপ তৈরির মতো ঘটনার ফলে নির্বাচনে মানুষের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়নি।

বিধায়ক দাবি করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু ভোটারকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে তাঁরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। তাঁর আরও অভিযোগ, কয়েকটি বুথে ভোট দিতে গিয়েও ভোটারদের ফিরে আসতে হয়েছে। কোথাও ভোটারদের আঙুলে কালি লাগানোর পরও তাঁদের ভোট দিতে না দেওয়া এবং ছাপ্পা ভোটের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রাজ্যে কবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন? আর জি করে ABVP-র সম্মেলনে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভোটারদের অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান শর্ত। তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে সেই পরিবেশ বজায় রাখা হয়নি। পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধী কর্মীদের গ্রেফতার, এলাকা ছাড়ার হুমকি এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। 

সংখ্যালঘুদের ভোটদানের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে ভোটদানের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের একটি বড় অংশ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগই না পান, তা হলে নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে জনসমর্থনের ব্যাখ্যা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ডিলিমিটেশন, রিজার্ভেশন ইচ্ছেমতো করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপিকে জেতাতে আর কী কী করবে তারা? একই সঙ্গে সংখ্যালঘু এলাকার জনসমর্থন নিয়ে বিজেপির দাবি উড়িয়ে কুণাল বলেন, সংখ্যালঘু এলাকায় ভোটটা করতে দিলেন কোথায়? এই দাবি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংখ্যালঘু এলাকায় বুথে গিয়ে সমীক্ষা করে দেখুন তাঁরা ভোটই দিতে পারেননি। 

আরও পড়ুন: জুতো-ট্র্যাকসুট ছাড়াই শাড়ি পরে বাজিমাত! অদম্য ইচ্ছাশক্তির নাম কবিতা কুমারী

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী এবং রেজিনগরে মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী জিতত। দুই কেন্দ্রেই ফলাফল অন্য রকম হতে পারত। তাঁর মতে, ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত না করে নির্বাচনী ফলাফলকে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায় বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপির জয় নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “যদি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন থাকে, তা হলে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা কিংবা ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠবে কেন? নির্বাচন অবাধ হলে মানুষ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেই সুযোগ নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।”