সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে লক্ষাধিক টাকার হদিস। তেলেঙ্গানার (Telangana) পর এ বার একই ছবি বিহারে (Bihar)। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে এক সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের (Government Engineer) বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার (Huge Money Recover) করল দুর্নীতিদমন শাখা। বিহারের মুজফ্‌ফরপুরে ওই ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে বিছানার নীচে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল সাজানো ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সেখান থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি পাটনা, ভাগলপুর ও মুঙ্গেরেও তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেখান থেকে কিছু মিলেছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

আরও পড়ুন: মাঝআকাশে বাঁচিয়েছেন শতাধিক প্রাণ, ইজরায়েলের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতীয় পাইলটকে

তদন্তকারী সূত্রে খবর, ওই ইঞ্জিনিয়ারের নাম নারদকুমার দাস। তিনি বিহারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের এগ্‌জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের তুলনায় বেশি সম্পত্তি থাকার অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালান দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকেরা। এই প্রসঙ্গে দুর্নীতিদমন শাখার ডিআইজি মানবজিৎ সিংহ ধিলোঁ জানিয়েছেন, মুজফ্‌ফরপুরে ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে বিছানার নীচ থেকে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নগদের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। নগদের পাশাপাশি গয়না এবং স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিও বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

তল্লাশিতে ইঞ্জিনিয়ারের একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের খোঁজ মিলেছে বলে খবর। ভাগলপুর ও পাটনায় তাঁর দু’টি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া মুজফ্‌ফরপুরে একটি ফ্ল্যাট এবং মুঙ্গেরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের সন্ধানও পেয়েছেন আধিকারিকেরা। তাঁর নামে বা বেনামে আরও সম্পত্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পত্তির উৎস জানার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া নথিপত্রও পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, এই ঘটনা প্রথম নয়। এরআগেও গত জুলাইয়ে তেলেঙ্গানাতেও এক সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অভিযানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস পাওয়া যায়। বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ চার লক্ষ টাকা, ব্যাঙ্কে জমা ৪৫ লক্ষ টাকা, দেড় কেজি সোনা এবং ১৩ কেজি রুপো উদ্ধার হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার আসবাব, সাড়ে ন’লক্ষ টাকার বৈদ্যুতিন সামগ্রী এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়িরও খোঁজ মিলেছিল। পরপর দুই রাজ্যে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ সামনে আসায় চর্চা শুরু হয়েছে। এই সম্পত্তির উৎস কী তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই পুরো ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।