সেনার গুলিতে ২০১৬ সালে মৃত্যু হয়েছিল হিজবুল মুজাহিদিনের (Hizbul Mujahideen) কমান্ডার বুরহান ওয়ানির (Burhan Wani)। এবার সেই জঙ্গিকেই ‘শহিদ’ বলে উল্লেখ করে বিতর্কে জড়ালেন পিডিপি নেতা আবদুল কবির (Abdul Kabir)। জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) কিস্তওয়াড়ায় একটি জনসভায় করা তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিতর্কের মধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে পিডিপি নেতাকে।
আরও পড়ুন: সস্তার ‘সুপারফুড’ ডিম! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা জেনে নিন
কী এমন বলেছিলেন আবদুল! দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বুরহান যখন মারা যান, তখন বিজেপির নেতারাই ক্ষতিপূরণ নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছেছিলেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন ওঠে, একজন জঙ্গিকে কীভাবে শহিদের মর্যাদা দেওয়া যায়? তবে সমালোচনার মুখেও নিজের বক্তব্য থেকে সরতে চাননি আবদুল। তাঁর সাফ কথা, গণতান্ত্রিক দেশে কে কী বলবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে তাঁর।
আরও পড়ুন: রাজ্যে কবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন? আর জি করে ABVP-র সম্মেলনে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
এই মন্তব্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একাংশের মধ্যে। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সংগঠন ‘রুটস ইন কাশ্মীর’-এর মুখপাত্র অমিত রায়নার বক্তব্য, বুরহান ওয়ানির মতো এক সন্ত্রাসবাদী কমান্ডারকে শহিদ বলে উল্লেখ করা মানে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারানো মানুষদের পরিবারের যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নরম মনোভাব দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে পিডিপি। বিজেপি নেতা যুধবীর শেট্টি আবদুলের মন্তব্যকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যেসব সেনাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কাছে পিডিপি নেতাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাঁর মতে, কোনওভাবেই সন্ত্রাসবাদীদের প্রশংসা করা যায় না।
উল্লেখ্য, একসময় হিজবুল মুজাহিদিনের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন বুরহান ওয়ানি। জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতবিরোধী প্রচার এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে ছিলেন তিনি। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল সরকার। ২০১৬ সালে সেনার অভিযানে মৃত্যু হয় তাঁর। এবার সেই বুরহানকে ‘শহিদ’ বলায় নতুন করে উত্তপ্ত কাশ্মীরের রাজনীতি।















