প্রোটিনের অন্যতম সস্তা ও সহজলভ্য উৎস হল ডিম। তবে ডিম খাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের শেষ নেই। কেউ বলেন ডিমের কুসুম হার্টের ক্ষতি করে, আবার কারও মতে প্রতিদিন ডিম খাওয়া ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এই সব জল্পনা ও প্রশ্নের অবসান ঘটাতে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা ডিমের পুষ্টিগুণ এবং এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সামনে এনেছেন।

আরও পড়ুন: বইমেলা আয়োজন কোনো ‘জন-দায়িত্ব’ নয়, গিল্ডের বিরুদ্ধে রিট মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের

ডিম সম্পর্কিত মূল প্রশ্নগুলির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আলোচনা করা হল- 

প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ?

হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকদের একটি বড় গবেষণা অনুযায়ী, একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না। তবে চিকিৎসকদের মতে, যাদের ইতিমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা গুরুতর হৃদরোগ রয়েছে, তাদের সপ্তাহে ৩ থেকে ৪টির বেশি ডিমের কুসুম না খাওয়াই শ্রেয়। 

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির জয়, ‘মানুষের রায় নয়’, তোপ কুণালের

ডিমের কুসুম কি সত্যিই কোলেস্টেরল বাড়ায়?

আগে মনে করা হত ডিমের কুসুমে থাকা উচ্চ কোলেস্টেরল (একটি মাঝারি ডিমে প্রায় ১৮৫-২০০ মিলিগ্রাম) সরাসরি রক্তের কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, খাবারের কোলেস্টেরলের চেয়ে খাবারে থাকা ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ (Saturated Fat) ও ‘ট্রান্স ফ্যাট’ (Trans Fat) আমাদের শরীরের ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখে। ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশ কম থাকায় তা শরীরের জন্য ততটা ক্ষতিকারক নয়। 

আরও পড়ুন: রাজ্যে কবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন? আর জি করে ABVP-র সম্মেলনে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

ডিম খাওয়ার সেরা ও সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় কোনটি?

ডিম রান্নার কোনো একটি নির্দিষ্ট ‘সেরা’ উপায় নেই, তবে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য সিদ্ধ ডিম (Boiled Egg) বা পোচ (Poached Egg) সবচেয়ে ভালো বিকল্প। অতিরিক্ত তেল বা মাখন দিয়ে ডিম ভাজলে বা ওমলেট করলে তাতে ক্যালোরি ও ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া, কাঁচা ডিমে ‘সালমোনেলা’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় ডিম সবসময় ভালো করে রান্না করে বা সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত। 

আরও পড়ুন: পুজোতেও বৃষ্টির চোখরাঙানি, মহাঅষ্টমী পর্যন্ত ভিজবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ

ডিম থেকে শরীরে কোন কোন পুষ্টি মেলে?

ডিমকে একটি প্রাকৃতিক ‘মাল্টিভিটামিন’ বলা চলে। এটি শরীরকে নানারকম পুষ্টি উপাদান জোগায়। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও মেরামতের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। ডিমে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ যেমন- ভিটামিন A, B12, D, E, আয়রন এবং জিঙ্ক। এছাড়াও থাকে কোলিন (Choline)। ডিমের কুসুমে থাকা এই উপাদানটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। 

তাই ডিম নিয়ে অহেতুক ভয়ের কোনও কারণ নেই। আপনি যদি গুরুতর কোনো ক্রনিক রোগে আক্রান্ত না হন, তবে প্রতিদিনের সুষম খাদ্যাতালিকায় একটি করে ডিম রাখা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং পুষ্টিকর।