বেথুয়াডহরির অভয়ারণ্যের থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ঘোষ মহাশয়ের খামারবাড়ি। পোশাকি নাম ‘নিপবীথি’। এক জায়গায় অর্গানিক চাষ থেকে অত্যাধুনিক রিসর্ট। আর এর পিছনে রয়েছেন বছর আটষট্টির তপন ঘোষ (Tapan Ghosh)। তাঁর নাম থেকেই ‘ঘোষ মহাশয়ের হেঁসেলে’। তবে, জীবন শুরু করেছিলেন দুধ ব্যবসায়ী হিসেবে। আর আজ এদিকে যেমন দুধ, ছানা, ঘি যেমন আছে তেমন আছে এই বিলাসবহুল রিসর্ট (Resort)। 
মাত্র ১৯ বছর বয়সে দুধের ব্যবসা শুরু করেন কৃষক-পুত্র তপন ঘোষ। ততদিনে অবশ্য তিনি বিয়ে করে ঘোর সংসারী। সঙ্গে তারা-ভক্ত। তারাপীঠ তাঁর ধ্যানজ্ঞান। চাষ নয়, ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন তরুণ তপন। দেড় কেজি দুধ নিয়ে ব্যবসা শুরু। এখন তার পরিমাণ প্রত্যহিক ২০০০০ লিটার। অনেকটা সমবায় মডেলে গোয়ালাদের থেকে দুধ নিয়ে তিনি সাপ্লাই করেন। সঙ্গে রয়েছে ঘিয়ের ব্যবসা। সারারাজ্য, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যবঙ্গে পাঠান সেই ঘি। 
২০০৯ সাল- হোটেল ব্যবসায় মন দিলেন তপন ঘোষ। রেজিনগরে ধাবা করলেন। সেই সময় তারাভক্ত তপন ভেবেছিলেন তারাপীঠেই হোটেল করবেন। ততদিনে রাজনৈতিক নেতা থেকে আমলা-অনেকের কাছেই পরিচিত নাম তপন ঘোষ। হোটেল করার জন্য মন্দিরের কাছেই জমি দেখছিলেন তিনি। মন্দিরে তারা মায়ের পা জড়িয়ে পড়ে আছেন, এদিকে ফোন বাজছে। বেরিয়ে ফোন করে জানতে পারেন, নদিয়ায় একটি হোটেল আছে। হাইওয়ের ধারে ছোট জায়গা, সঙ্গে বার। সেখানেই তিনি শুরু করলেন ‘নিপবীথি’।
আরও পড়ুন: লোকভবনে ‘ক্যালকাটা কিলিং’ নিয়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা! বিভাজন নয়, সম্প্রীতির বার্তা দিন: সরব কুণাল

সেই জায়গায় আজ বিশাল জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে ফার্ম হাউজ (Farm House)। একদিকে অর্গানিক চাষ, পুকুর মাছ, আরেক দিকে ঝাঁ চকচকে রেস্তোরাঁ, পানশালা, সুইমিং পুল। উইকএন্ড ডিস্টিনেশন হোক বা যাতায়াতের পথে দুদণ্ড বিশ্রাম, কর্পোরেট মিটিং বা ডেস্টিনেশন ওয়েডিং- যে কোনও কারণের পছন্দের জায়গা হতে পারে নীপবীথি।
যাদব ইউনিয়নের রয়েছেন তপন ঘোষ। ২০১৫-তে মন্দারমণিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁর বড়পুত্র। সেই সময় কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সময় থেমে থাকেনি। ফের এগিয়ে গিয়েছেন জীবনযুদ্ধে। সিনেমা বা খেলা কোনও কিছুতেই মনের খোরাক পান না ঘোষ মহাশয় ব্যবসাই তাঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। 
নীপবীথি-তে যেতে হলে যোগাযোগ করা যেতে পারে ম্যানেজার তন্ময় ঘোষের সঙ্গে। যোগাযোগের নম্বর- 9647458744
















