উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার প্রচারের সমাপ্তি দিনে দাঁড়িয়ে তিনি যেমন রাজ্য রাজনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে আক্রমণ শানালেন, তেমনই তাঁর বক্তব্যে উঠে এল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও। বামপন্থী ও তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের কঠোর সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনে বাংলার মানুষের মন পাওয়া যাবে না।
রবিবার নন্দীগ্রামে ছিল উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন। আগামী ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে এদিন সকাল থেকেই পথে নামেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের টেঙ্গুয়া থেকে থানা মোড় পর্যন্ত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এক সুবিশাল পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। এর পর সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধীদের একহাত নেন শুভেন্দু। এসআরএফটিআই-এর সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলায় নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে প্রতিপন্ন করতে গিয়ে বামপন্থীরা ধারাবাহিক ভাবে হিন্দুদের আঘাত করেছে। অথচ এখন মানুষ তাঁদের হাজার হাজার বছরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর কটাক্ষ, তথাকথিত বামপন্থীদের কপালে চন্দনের টিকা দেখা যায় না, তাঁরা পুষ্পাঞ্জলিও দেন না। এই ধরনের অতিবাম ও জামাতি শক্তি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অতীতে ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী তৃণমূল জমানার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এরা একই নীতি নিয়ে চলেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাবাবেগকে নিশানা করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের মাথার উপর যে গেরুয়া ধ্বজা ওড়ে, তাকে আক্রমণ করলে গেরুয়াই তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। অভিযোগ ওঠে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের তরফে অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হয় এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি অবমাননা করা হয়। সেই ঘটনার রেশ ধরে রবিবারই বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের কর্মী-সমর্থকেরা একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন। অজয়নগর মোড় থেকে শুরু হওয়া সেই মিছিল ক্যাম্পাসের গেটের কাছে পৌঁছতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক ধরে ঝাঁকাতে শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানের গেটে লাগানো গেরুয়া পতাকা খুলে ফেলার প্রতিবাদেও সরব হন আন্দোলনকারীরা। নন্দীগ্রামের মঞ্চ থেকে সেই রাজনৈতিক উত্তাপকে হাতিয়ার করেই শেষলগ্নে ভোটারদের মন জয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।















