গরুচোর সন্দেহে আটকে রেখে গণপিটুনির অভিযোগে মৃত্যু হল দুজনের। এমনই অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানার তারাবাড়ি এলাকায়। ঘটনায় দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, শনিবার ভোররাতে বালাসন নদীর ধারে কয়েক জন অপরিচিত যুবককে গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ হয়। এলাকায় আগে গরু চুরির কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এরপর ওই যুবকদের ধাওয়া করে দু’জনকে ধরে ফেলা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা দুটি গাড়িও আটক করা হয়। তবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও অধরা অভিযুক্তরা।
এদিকে, মৃত যুবক শাহিদের স্ত্রী শনিবার বিকেলে শিলিগুড়িতে এসে মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, প্রায় দশ বছর ধরে গরু ও মোষের ব্যবসা এবং লাইন ম্যানের কাজ করতেন শাহিদ। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে পিকআপ ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। শাহিদের স্ত্রী বলেন, তাঁকে ফোন করে জানানো হয় শাহিদের মৃত্যুর খবর। তিনি আরও বলেন, “হাত-পা ভেঙে দিত, কিন্তু একেবারে মেরে দিল আমার স্বামীকে। দুই মেয়ে, এক ছেলে আমার। গ্রামবাসীরা এটা উচিত কাজ করেনি। পুলিশের হাতে তুলে দিত। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, এই খুনের বিচার চাই।”
অভিযোগ, আটকে রাখার পর স্থানীয়দের একাংশ তাঁদের উপর চড়াও হন। শুরু হয় গণপিটুনি। ঘটনাস্থলেই এক যুবকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। অন্য যুবক গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। পরে মাটিগাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আটক করা দুটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।















