বিরোধী হিসেবে সব জায়গায় তৃণমূলকেই ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তার জেরে গা জোয়ারি করে এবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটি থেকে তৃণমূল সাংসদদের সরালো ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। সরব হয়েছেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। 

রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদকে (Kirti Azad) সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী এনসিপিআই শিবিরের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে (kakoli Ghosh dastidar)।

আরও পড়ুন: AAP-এ ‘ভাঙন’ অব্যাহত, এবার কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা কক্কড়

এদিকে বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী (Sudhanshu trivedi)।

এ নিয়ে সাংসদ দোলা সেন বলেন, তিনি পরপর দু বছর এই পদে ছিলেন। ডিএমকে-সহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাংসদদের বিভিন্ন পদে রাখলেও এবার রাখা হল না তৃণমূল সাংসদদের। গা জোয়ারি করে সরানো হচ্ছে তৃণমূল সাংসদদের।  

এই দুই প্যানেলের চেয়ারপার্সন পদে বদল ছাড়া আর কোনও উল্লেখযোগ্য রদবদল নেই। শিল্প বিষয়ক সংসদীয় কমিটি এবং খাদ্য, উপভোক্তা বিষয়ক প্যানেলের চেয়ারপার্সন হিসাবে পুনর্বহাল হলেন ডিএমকে-র দুই সাংসদ তিরুচি শিবা এবং কে কানিমাঝি। এনডিএ-র শরিকদল জেডিইউ, শিবসেনা (শিন্ডে) এবং টিডিপি-র সাংসদেরা বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন। তাঁদের সেই পদেই বহাল রাখা হল। বিদেশ এবং কৃষি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে পুনর্বহাল করা হল শশী থারুর এবং চরণজিৎ সিং চান্নিকে। 

আরও পড়ুন: রেজিনগরে বুথ দখলের চেষ্টা! বিজেপির চক্রান্ত ফাঁস করলেন কুণাল

অন্যদিকে কংগ্রেসের মুকুল ওয়াসনিক, সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল বর্মার মতো বিরোধী দলের সাংসদেরা নিজের পদে বহাল রইলেন। এ ছাড়াও, কয়লা, খনি ও ইস্পাত বিষয়ক সংসদীয় প্যানেলের চেয়ারপার্সন পদে থেকে গেলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। জলসম্পদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির মাথায় রইলেন বিজেপির রাজীবপ্রতাপ রুডি। অর্থ বিষয়ক প্যানেলের শীর্ষপদে বহাল থাকলেন বিজেপির সাংসদ ভর্তহরি মাহতাব। নিশিকান্ত দুবেকে যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্যানেলের চেয়ারপার্সন পদে রেখে দেওয়া হল। তবে রেল সংক্রান্ত সংসদীয় প্যানেলে ছিলেন বিজেপির সিএম রমেশ। তাঁর জায়গায় ওই দায়িত্বে বসানো হল রমেশেরই সহকর্মী তথা বিজেপির সাংসদ সুধীর গুপ্তকে।

বর্তমানে এনসিপিআই সাংসদদের সদস্যপদ বিষয়টা সার্বিকভাবে বিচারাধীন। কেন তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল হবে না? এই প্রশ্নের জবাব দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। এর মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে।