দেশজুড়ে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখবেন প্রাক্তন বিচারপতিদের কমিশন।

লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন নামে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসআইআরের বৈধতা ‌ যাচাইয়ের কাজটি করবেন সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা।

নির্বাচন কমিশনের এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার কারণে কয়েক কোটি বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবীদের সংগঠন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি লোকুরের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে পাঁচ সদস্যের কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা, পদ্ধতি এবং সার্বিক প্রভাব খতিয়ে দেখবে। এছাড়াও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর ফলে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না দেখা হবে। এসআইআরের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় একটি মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলায় নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে বৈধতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 

সারের জন্য প্রায় ১৩ কোটি ভোটার বাদ গিয়েছেন। ফলে আবার নতুন করে এসআইআরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শীর্ষ আদালতে এসআইআর মামলায় বিশিষ্ট আইনজীবীরা এই প্রক্রিয়াকে সংবিধানবিরোধী বলে দাবি করেছিলেন। এখন আবার তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতিদের কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বৈধতা খতিয়ে দেখার।

জানা গিয়েছে, আইনজীবীদের তৈরি স্বাধীন কমিশনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি লোকুর ছাড়াও থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি একে পট্টনায়েক, জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বদর দুররেজ আহমেদ এবং প্রাক্তন বিচারপতি রেখা শর্মা ও অঞ্জনা প্রকাশ। 

এজন্য এই কমিশন দেশজুড়ে গণশুনানি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নাগরিক, সুশীল সমাজ সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সাক্ষ্য রেকর্ড করবেন তাঁরা। কপিল সিবাল, প্রশান্ত ভূষণ, চন্দর উদয় সিং, প্রশান্ত চন্দ্র সেন, রাজু রামচন্দ্রন, রেবেকা ম্যামেন জন, ওয়ারিশা ফারাসাত এবং বৃন্দা গ্রোভার-সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী কমিশনকে কৌশলগত আইনি পরামর্শ দেবেন।