দিল্লির (Delhi) রাজনীতিতে ফের দলবদলের হাওয়া। আম আদমি পার্টি (Aam Admi Party) ছেড়ে এবার কংগ্রেসে (Congress) যোগ দিলেন আপের জাতীয় মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা কক্কড় (Priyanka Kakkar)। তাঁর সঙ্গে একই দিনে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন আপ নেতা রজত রাকেশ ট্যান্ডন এবং প্রাক্তন বিধায়ক শ্যাম সুন্দর শর্মাও। শনিবার তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন: ওটিটির দুনিয়ায় জিতের রাজকীয় এন্ট্রি: জি ফাইভ বাংলায় আসছে ‘অনন্ত সিং’
পেশায় আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই টেলিভিশনের রাজনৈতিক বিতর্কে আপের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে বিজেপির মুখপাত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন বিতর্কে দলের হয়ে সরব হতে দেখা যেত তাঁকে। সেই প্রিয়াঙ্কার হঠাৎ দলবদলে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এদিন কংগ্রেসে যোগদানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দেবেন্দ্র যাদব, রাজীব শুক্লা এবং পবন খেরা। নতুন দলে পা রেখেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর কথায়, যে দিল্লিতে তিনি বড় হয়েছেন, সেই দিল্লিকে আবার ফিরে পেতে চান। তাঁর লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও প্রগতিশীল একটি রাজধানী। এক দশকেরও বেশি সময় রাজনীতিতে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর মনে হয়েছে, সেই পরিবর্তন কংগ্রেসের হাতেই সম্ভব।
আরও পড়ুন: রেজিনগরে বুথ দখলের চেষ্টা! বিজেপির চক্রান্ত ফাঁস করলেন কুণাল
তবে শুধু দিল্লির উন্নয়ন বা নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই কথা বলেননি প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের উপর আস্থার কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, দেশের রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্বের প্রশ্নে রাহুল গান্ধীর উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। নানা আক্রমণ ও বিতর্কের মধ্যেও রাহুল এবং কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আপ ছাড়ার কারণ নিয়েও মুখ খোলেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দলের পুরনো ‘সাদাসিধে রাজনীতি’র দাবি এবং বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগ। সরাসরি নাম না করলেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নিশানা করে তিনি বলেন, একসময় আপের নেতারা গাড়ি বা বাংলোর মতো সরকারি সুবিধা নেবেন না, এমন আদর্শের কথা বলতেন। কিন্তু পরে দলের নেতাদের ব্যক্তিগত যাতায়াতে চপার ব্যবহারের মতো বিষয় সামনে এসেছে।
প্রিয়াঙ্কার আরও অভিযোগ, আপ একসময় দেশের বহু প্রতিভাবান মানুষকে রাজনীতিতে টেনে এনেছিল। কিন্তু তাঁদের ধরে রাখতে পারেনি। বর্তমানে দলের সংগঠনে এমন কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর দাবি, যাঁদের স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক কাজের অভিজ্ঞতাও নেই। রাজস্থান থেকে আসা কিছু নেতাকে পাঞ্জাবে বড় পদ, বাংলো ও গাড়ির মতো সুবিধা দেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এই নীতির সঙ্গে তিনি একমত নন বলেই আপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান প্রিয়াঙ্কা।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আপের একাধিক পরিচিত নেতার দলত্যাগের পর প্রিয়াঙ্কার কংগ্রেসে যোগদান নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাঘব চাড্ডা-সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার দল ছাড়ার পর এবার জাতীয় মুখপাত্রের দলবদল দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।















