প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাপানউতোর চলছে, তখন নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়েও সামনে এল বিতর্ক। জুলাই মাসে ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে পাঠানো দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর চিঠিতে কমিশনের প্রশাসনিক পদ্ধতি এবং ফাইল পরিচালনার নিয়ম নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নথি তদারকির প্রচলিত ব্যবস্থা ও পদক্রম মেনে না চলেই সেখানে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সামাজিক মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষার 'ভন্ডামি', নাম না করে কাদের কটাক্ষ সিজেপির
বিষয়টি মূলত নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ফাইল পরিচালনা ঘিরে। ওই বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলের প্রশাসনিক ফাইল এতদিন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্তরে যেত। অভিযোগ, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের নির্দেশে সঞ্জয় কুমারকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ওই নথি ও ফাইল সরাসরি নিজের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়। দুই নির্বাচন কমিশনার তাঁদের চিঠিতে দাবি করেন, এভাবে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি বদলানোয় কমিশনের স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে ফাইল পর্যালোচনার ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর মণীশ গর্গ দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য, চলতি বছর তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিজি (ডিজি-আইটি) খান্নার পদোন্নতির পর দফতরের ফাইল পরিচালনায় পদমর্যাদা সংক্রান্ত একটি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রশাসনিক সমস্যা দূর করতেই সঞ্জয় কুমারকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুনভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। তবে গর্গের এই ব্যাখ্যায় দুই কমিশনারের আপত্তি পুরোপুরি মিটেছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
আরও পড়ুন: ক্যাগের তদন্তের মুখে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, খরচ-নিয়োগে একাধিক অভিযোগ
দুই নির্বাচন কমিশনারের ক্যাবিনেট সচিবকে লেখা চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কোন স্তরে, কার তত্ত্বাবধানে এবং কী পদ্ধতিতে পর্যালোচনা হবে, সেই ব্যবস্থাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক। কমিশনের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার কাঠামো অক্ষুণ্ণ রয়েছে কি না, দুই কমিশনারের আপত্তিতে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।















