ধ্রুপদী বাংলা ভাষার চর্চা ও গবেষণার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বভারতীকে (visva bharati) বেছে নিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। রবীন্দ্রনাথের (Rabindranath Tagore) শান্তিনিকেতন থেকেই এবার ধ্রুপদী বাংলা ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রসারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এই উৎকর্ষ কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলা ভাষার গবেষণা, সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং বিশ্বব্যাপী প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে CJP-যুব প্রজন্মের আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন: দিল্লি থেকে ফিরে জানালেন মমতা
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশিকা মেনে এই গুরুদায়িত্ব পেয়েছে বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগ। ফলে শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) হয়ে উঠতে চলেছে ধ্রুপদী বাংলা ভাষা গবেষণার জাতীয় সদর দফতর। শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত বাংলা ভাষার প্রসারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এই স্বীকৃতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি বাংলা ভাষার বরিষ্ঠ গবেষকদের জন্য একটি বিশেষ 'প্রফেশনাল চেয়ার' সৃষ্টি করতে চলেছে। এর ফলে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ অধ্যাপকরা সরাসরি জাতীয় স্তরের অগ্রণী বিদ্যাচর্চায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বাংলা ভাষায় বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের এবার থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বার্ষিক সম্মান দেবে সরকার। যা হবে সরাসরি রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের সমতুল্য!
শুধু বাংলা ভাষার গবেষণা ও সংরক্ষণ নয়, অনুবাদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই কেন্দ্র। অন্য ভাষার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য বাংলায় অনুবাদের পাশাপাশি বাংলার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে ইতিহাস, সঙ্গীত, নৃত্য এবং দর্শনকে যুক্ত করে আন্তর্বিষয়ক গবেষণার উপরেও জোর দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ে ফিরুন সুকান্ত: দাবি লেখক শিল্পী সঙ্ঘের, নজর নতুন সিলেবাসে
ফলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। অসমিয়া, বাংলা, মরাঠি, পালি এবং প্রাকৃত-দেশের পাঁচটি ধ্রুপদী ভাষার জন্য পাঁচটি উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। তার মধ্যে ধ্রুপদী বাংলা ভাষার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বিশ্বভারতীকে। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন থেকে ধ্রুপদী বাংলা ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণায় এই উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।















