ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) আন্দোলনের দিন সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত উত্তাল। বাম, কংগ্রেস, আপ-সহ সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাটাই দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে পদত্যাগ করুক জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh KUmar)। দিল্লিতে ইতিমধ্যে এই বিক্ষোভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী মারলেনা, সৌরভ ভরদ্বাজ, সৃজন ভট্টাচার্য-সহ সাতশোর বেশি জনকে পুলিশ পাকড়াও করেছে।

আরও পড়ুন: আগে শুধু নামেই ব্যাঘ্র প্রকল্প: বক্সায় বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিগত সরকারকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে বিকেল চারটে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। তবে শেষ পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, এই কর্মসূচির অনুমতি এখনও দেয়নি মুম্বই পুলিশ। তার আগেই সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত উত্তপ্ত। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই এবং লখনৌ-সহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। কলকাতায় বামেদের মিছিল ছিল- রাণি রাসমণি থেকে গান্ধী মূর্তি পর্যন্ত। বামেদের মিছিলে স্লোগান চলেছে-'জ্ঞানেশ তাড়াও, ভোটার ফেরাও'।

বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন সিপিএম নেতা তথা SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁকেও আটক করেছে পুলিশ। থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘গোটা দেশে তুলকালাম পড়ে গিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে। না হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে।’ বিক্ষোভে যোগ দেওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে দিল্লির যন্তর মন্তর উত্তাল হয়ে উঠেছিল। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে কেবল দিল্লি নয় দেশের সর্বত্র চলে বিক্ষোভ কর্মসূচি। প্রতিবাদের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এবার একবার ফের প্রতিবাদে নামছে ‘ককরোচরা’। 

যদিও শিবাজি পার্কে এরকম কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। পুলিশ আধিকারিকদের তরফে বলা হয়েছে, কর্মসূচির জেরে শব্দদূষণ এবং যানজটের সৃ্ষ্টি হতে পারে। কাছেই হাসপাতাল হওয়ায় রোগীদের যাতায়াতেও প্রভাব পরতে পারে। এছাড়াও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শিবাজি পার্ক কেবল শিশুদের জন্য খেলার এলাকা। সেখানে জমায়েতের কোনো অনুমতি নেই। 

তবে পিছুপা হতে নারাজ সিজেপি। অনুমতি না মেলায় সিজেপির তরফে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে শিবাজি পার্কে। দিল্লির যন্তর মন্তরেও বাড়তি নিরাপত্তা। উড়ছে ড্রোন। বলিউডের একাধিক তারকা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: দেশ গর্বিত আপনার কাজে! আহত পাইলট স্মিতের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা প্রধানমন্ত্রীর

সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন,‘মুম্বইয়ের পরে আমরা দিল্লি যাব। সংবিধান আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দেয়। সংবিধানের দেওয়া সেই অধিকার যদি আপনাদের পছন্দ না হয়, তাহলে সাহস থাকলে সংবিধানকেই পাল্টে দিন।’ শুক্রবার বিকেল চারটে থেকে আন্দোলনে নামছে সিজেপি। যদিও মুম্বাই পুলিশের উপর এখনও আস্থা রাখছেন সৌরভরা। তবে পরবর্তীতে এই আন্দোলন কী রূপ নেয়? এখন সেটাই দেখার।