কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা প্রশাসনিক ভবন হল নবান্ন (Nabanna)। আর সেখানেই ঢুকে পড়লেন এক মহিলা। শুধু ঢোকাই নয়, নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) কর্মী পরিচয় দিয়ে পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করলেন তিনি। কিন্তু কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়তেই সন্দেহ হয় মন্ত্রীর। শুরু হয় পরিচয় যাচাই। আর সেই যাচাই পর্বের মাঝেই কাউকে কিছু না জানিয়ে নবান্ন থেকে উধাও হয়ে যান ওই মহিলা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর দেওয়া পরিচয়টি ছিল ভুয়ো। এরপরই শুরু হয় পুলিশের তৎপরতা। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। কলকাতা ছেড়ে দিল্লিতে নিজের বাড়িতে পৌঁছেয়েও অবশ্য শেষরক্ষা হল না। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই সেন্ট্রাল দিল্লি থেকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে তাঁকে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক নিয়োগে কাটছে জট! প্রতিবছর TET-এর ঘোষণা স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যায় ড. আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী নামে ওই মহিলা নবান্নে পৌঁছে নিজেকে পিএমও-র কর্মী বলে পরিচয় দেন। এরপর পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চান। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রীর সাক্ষাৎও করেন।  তখনই বেশকিছু বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা যায়। প্রাথমিক যাচাইয়ে ওই মহিলা পিএমও-র কর্মী হিসেবে যে পরিচয় দিয়েছিল সেটা সত্যতা মেলেনি বলে জানা যায়। এরপর রাতেই শিবপুর থানায় (Shibpur Police Station) মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৯(২), ২০৪ এবং ৩৪০(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এর মধ্যেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, কলকাতায় আর নেই ওই মহিলা। বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়ে নিজের বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। সময় নষ্ট না করে বুধবার রাতেই শিবপুর থানার তরফে এক মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দিল্লিতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেন্ট্রাল দিল্লির একটি আবাসন থেকে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপর তাঁকে কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

তবে তদন্তকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ঠিক কী উদ্দেশ্যে নবান্নে এসেছিলেন ওই মহিলা? সত্যিই কি কোনও সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল, নাকি ভুয়ো পরিচয় দিয়ে নবান্নে প্রবেশের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিশেষ করে নবান্নের মতো রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত ভবনে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পুরো ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।