প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কাটছে জট। ২০২২ সালের টেট (TET) উত্তীর্ণদের নিয়োগপ্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। তার মধ্যেই এবার দ্রুত সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার বার্তা দিলেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী (School Education Minister) দীপক বর্মন। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, “চলতি নিয়োগ শেষ করেই পরবর্তী নিয়োগের পথে এগোবে সরকার।” পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিত, এমনকি প্রতি বছর টেট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন দীপক (Dipak Barman)।
আরও পড়ুন: খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে অপহরণের চেষ্টার ধারা দিয়েছে পুলিশ: থানা থেকে বেরিয়ে জানালেন কুণাল
স্কুলশিক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রথমে ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার দিকেই নজর সরকারের। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে যে শূন্যপদ তৈরি হবে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী নিয়োগের জন্য ফের টেট নেওয়া হবে। আর সেই পরীক্ষা কোনও দীর্ঘ বিরতির মধ্যে না রেখে প্রতি বছর আয়োজন করা হবে। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও সরস্বতীপুজোর মতো বছর বছর টেট হবে।”
শেষবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন ও দাবির পর ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ইন্টারভিউ। মোট ১৩ হাজার ৪২১ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলায় ধাপে ধাপে সাক্ষাৎকার নেওয়ার কাজ এগোচ্ছিল। প্রথম চার দফার ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর আরও কয়েকটি জেলার জন্য নতুন সূচি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের ইন্টারভিউয়ের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়ার ইন্টারভিউ ১৯ মার্চ শেষ হয়। ষষ্ঠ পর্যায়ে ২৩ মার্চ পুরুলিয়ায় ইন্টারভিউ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয় নতুন জটিলতা। নির্বাচন ঘোষণার পরেও কীভাবে ইন্টারভিউ চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই বিষয়ে ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশন স্কুলশিক্ষা দফতরকে চিঠি দেয়। ৩০ মার্চ সেই চিঠি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে পৌঁছয়। শেষ পর্যন্ত ১ এপ্রিল ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। ফলে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। এই আবহে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর করার কথা জানালেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী।
অন্যদিকে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের (বিদ্যালয়) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়। সরকারের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন”। ফলে স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
















