নির্বাচন প্রক্রিয়া হাইজ্যাক করে BJP-কে জিতিয়েছেন সীমা খান্না-ভ্যানিশ কুমার- I.N.D.I.A.-র বৈঠকের পরের দিন বৃহস্পতিবার, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে তোপ দাগলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) পাশে নিয়ে একের পর এক তথ্য দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও তাঁদের টিমকে তুলোধনা করেন মমতা। বিস্ফোরক অভিযোগ করে তিনি বলেন, যত ভোটে গতবার বাংলায় বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃণমূল জিতেছিল, তত ভোটারকে এসআইআর (SIR) করে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "মার্চ মাসে নির্বাচন, তার আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে। আমাদের সরকার ছিল। কিন্তু কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। বদল করা হয় রাজ্যপালকে। তামিলনাড়ুতে বিতর্কিত কাজকর্মের জন্য পরিচিত রাজ্যপালকে তুলে আনা হয়। তাঁর আগের রাজ্যপাল যিনি ছিলেন, তিনি বোধহয় সব কথা শুনছিলেন না। তাই নির্বাচনের আগে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বের করে দেওয়া হয়। থাকার জায়গাও দেয়নি। আমি ব্যবস্থা করে দিই।"
সরাসরি 'ভোটচুরি'র অভিযোগে চলে যান মমতা। বলেন, "আমাদের ওখানে ৪০০০ EVM পুড়িয়ে দিয়েছে। কাউন্টিং মেশিনও। ন'তলা বিল্ডিং। আর কোথাও আগুন লাগল না, শুধু EVM যেখানে ছিল। জবরদস্তি বিজেপি-কে জেতানোর মেশিন পুড়িয়ে দিয়েছে। কেমন SIR হয়েছে ভাবুন। জেনেশুনে, বিজেপি-র পরিকল্পনা মাফিক কাজ হয়েছে। মাস্টারমাইন্ড বিজেপি। অভিষেক ডিসেম্বরেই প্রশ্ন তুলেছিল সীমা খান্না সফ্টওয়্যার, AI দিয়ে কাজ করাচ্ছে বলে। ওঁকে কী ভাবে নিয়োগ করা হয়, কী ভাবে ভোটার তালিকার কেন্দ্রীয়করণ হয়েছে, তা নিয়ে চিঠিও দেওয়া হয়। চিঠি দিয়েছিলেন WBCS অফিসাররাও যে EROদের পুরোপুরি ব্লক করে দিয়েছে।"
আরও পড়ুন: খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে অপহরণের চেষ্টার ধারা দিয়েছে পুলিশ: থানা থেকে বেরিয়ে জানালেন কুণাল
তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, "আমি আগে থেকে ভ্যানিশ বলি, কারণ যিনি লোকের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তাঁকে কী করে ক্ষমা করব? দেশবাসী কী করে ক্ষমা করবে? নির্বাচন কমিশনকে এতদিন বিশ্বাস করতেন সকলে। অনেক কমিশনার দেখেছি, মিস্টার গিল, টিএন শেষন, মিস্টার কুরেশি, নবীন কুমার। কখনও এমন দেখিনি। আমার নিজের গণনাকেন্দ্রে সব দখল করে নেয়। আমি ১৫ হাজার ভোটে জিতছিলাম। আমাকে মারধরও করা হয়। সিআরপিএফ গেট আটকে দেয়, যাতে ভিতরে ঢুকতে না পারি। এজেন্টদের মেরে বের করে দেওয়া হয়। ব্লক করে দেওয়া হয় সিসিটিভি। কোথায় গেল সিসিটিভ ফুটেজ? ইভিএম হ্যাক করেছে।"
এর পরেই সীমা খান্নার প্রসঙ্গে তোলেন মমতা। জানান, গত বছর ডিসেম্বরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম সীমা খান্নার নাম সামনে আনেন। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, সীমা খান্না, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন এবং গণনাপ্রক্রিয়া হাইজ্যাক করে নেয়। চুরি করে জেতা তথআকথিত জয় হাসিল হওয়ার পর, ভ্যানিশ কুমার মিষ্টি বিতরণ করেন। কখনও এমনটা দেখিনি। বিজেপি-কে সন্তুষ্ট করতেই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছেন উনি। নির্বাচনের সময় কখনও SIR হওয়া দস্তুর নয়। উনি শাসকদলকে ইনসেন্টিভ পাইয়ে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্র, বিহার, হরিয়ানার মতো অনেক জায়গায় হয়েছে। ঝড় আসছে ঝড়। মানুষ জবাব দেবেন।"
রীতিমতো তথ্য দিয়ে মমতা দেখান যত ভোটে আগের নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছিল, তার থেকে বেশি ভোটারদের এসআইআর করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, "কলকাতায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৮ ভোটে জিতেছিলাম। SIR-এর পর হল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ১৬০। মানে ৩.৫ লক্ষ সরিয়ে দিল। আমি যা জিতেছিলাম, তাও। ৪ লক্ষ ৫৫ হাজারে জিতেছিলাম। ৭ লক্ষ সরিয়েছে। নদিয়ায় জিতেছিলাম ২৩ হাজার ৯০৩ ভোটে। সেখানে বের করে দিল ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৬৫। কলকাতায় ভোচটার ছিল ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৮। এসআউআকের পর হল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ১৬০ করে দিল। মানে ৩.৫ লক্ষ সরিয়ে দিল আলাদা আমি যা জিতেছিলাম, তারও। ৪ লক্ষ ৫৫ হাজারে দিতেছিলান। ৭ লাখ সরিয়ে দিয়েছে। নদিয়ায় দিতেছিলাম ২৩ হাজার ৯০৩ ভোটে। বের করে দিল ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৬৫। মানে বুঝুন। উত্তর ২৪ পরগনায় সব আসন তৃণমূলের দখলে ছিল। ৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৪৩ ভোটে জিতেছিল বিজেপি। সেখানে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬ জন, প্রায় ৩ লক্ষ। বেছে বেছে, কেন্দ্র ধরে ধরে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে আমরা জিতেছিলাম, সেখানে চার গুণ করে ভোট কেটেছে। হাওড়ায় ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮৭৩ ভোটে জিতেছিলাম। বাদ যায় ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার। উত্তর দিনাজপুরে জিতেছিলাম ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৪৪ ভোটে। বাদ দেয় ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৪৬কে। নির্বাচন হওয়ার আগেই ভোট জিতে নেন জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকা থেকে মানুষকে গায়েব করে দিয়েছেন।"
















