রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তারপরই পর পর বিস্ফোরণের শব্দ। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়ায় (Haroya) বোমাবাজির (Bomb Blast) ঘটনায় ছড়াল আতঙ্ক। শালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালবেড়িয়া এলাকায় বুধবার রাতে পর পর পাঁচটি বোমা (Bomb) ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় মোট আটজন আহত (Injured) হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় ভুয়ো পাসকাণ্ডে আবার হাজিরার নির্দেশ ইন্দ্রনীলকে

স্থানীয়দের অভিযোগ, বোমাবাজির আগে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অন্ধকারের মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাড়োয়া থানার পুলিশ (Haroya Police Station)। তল্লাশি চালিয়ে ৮-১০টি তাজা বোমা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। 

 

ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির (BJP) অভিযোগ, তাদের কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পিছনে আইএসএফের (ISF) লোকজনের হাত রয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতা রাম ঘোষাল দাবি করেছেন, ৪ মে-র পর থেকেই এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এদিনও পরিকল্পনা করেই বোমাবাজি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে বিজেপির দাবি। 

 

যদিও বিজেপির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে আইএসএফ। তাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। স্থানীয় আইএসএফ নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, এলাকায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তোলাবাজি ও এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ চলছে। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই বোমাবাজির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে দাবি তাদের।

 

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের নজরদারি নিয়েও। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একাধিক তাজা বোমা মজুত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেগুলি কীভাবে সেখানে এল, আগে থেকে কোনও খবর পুলিশের কাছে ছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে বোমাবাজির প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।