ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজো পরিক্রমার ভুয়ো পাস বিক্রির তদন্তে নয়া মোড়। বুধবার কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। এই আবহে ফের তাঁকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ৭ অক্টোবর সকাল ১১টায় সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়েছে ইন্দ্রনীলকে। তাঁকে হাজিরা দেওয়ার সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সহ ব্যাঙ্কের তথ্য নিয়ে আসতে বলা হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন: বিচারকের পোশাক দেখে এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’! আদালতের মর্যাদা রক্ষায় সরব আইনজীবীরা
বুধবার প্রাক্তন মন্ত্রীকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি দেখা যায়। সেইজন্যই আবার তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একই মামলায় তলব করা হয়েছে ‘মাস আর্ট’ সংস্থার সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসুকেও। বৃহস্পতিবারই তাঁকে ইডির দফতরে হাজির দেওয়ার কথা।
ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি নিয়ে দুর্নীতি করার অভিযোগের তদন্তে নেমে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন প্রাক্তন মন্ত্রীর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ৫০- ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে মনে করা হলেও তদন্তে নেমে আধিকারিকরা মনে করছেন এই সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি।
ভুয়ো পাস বিক্রিতে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনেরও যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। ২০২১ সালে কলকাতা দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরই মধুছন্দার 'মাস আর্ট' সংগঠন নিজেদের ইউনেস্কোর (UNESCO) অফিসিয়াল পার্টনার বলে দাবি করে দুর্গা পুজোর প্রচারের নামে চড়া দামে পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি করে বলে অভিযোগ। মানুষের বিশ্বাস জিততে টিকিটে বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ও লোগোও নাকি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন্দ্রনীল যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন অভিযোগকারী পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। যেহেতু তিনি পর্যটন দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তাই সেই সংক্রান্ত কোনও রাগ বা প্রতিহিংসা থেকেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবিকে কর্ণপাত না করে সিজিও কমপ্লেক্সে দ্বিতীয়বার হাজিরার নির্দেশ দিল ইডি।
















