এক সময় নিজেকে বীরভূমের একচ্ছত্র রাজা মনে করা কেষ্ট মণ্ডলের (Anubrata Mondal) অফিসে ঢুকে তাঁর জামার কলার ধরে হুমকি, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, পুলিশের সামনে মুখ ঢাকা কাপড় খুলে "জয় শ্রীরাম" স্লোগান এবং রাতেই পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্ত ধৃত তিন যুবক। বুধবার সন্ধ্যা থেকে খবরের শিরোনামে জায়গা করে নেওয়া অনুব্রতর উপর হামলার ঘটনার সবটাই কি তাহলে সাজানো ছিল? ঋতব্রত শিবিরের নেতা রাত পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করলেন না, পুলিশও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করল না। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে একগুচ্ছ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: গঙ্গা ভাঙনের জের, লক্ষ্মীবারে বাতিল ২২ ট্রেন! দূরপাল্লার এক্সপ্রেসের রুট বদলে যাত্রী ভোগান্তি
বুধবার সন্ধ্যায় বীরভূমের সিউড়ি পুরনো বাসস্ট্যান্ডে অনুব্রতর পার্টি অফিসে গিয়ে আকাশ দেবনাথ, ঋষভ গোর ও বান্টি বীরবংশী নামে তিন যুবক গাছের ডাল নিয়ে হামলা চালায়। ভেঙে ফেলা হয় টেবিল, চেয়ার, এসি। ভাইরাল ভিডিও দেখা গিয়েছে 'বীরভূমের বাঘ'কে লাঠি উঁচিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যদিও তাঁর গায়ে এতটুকু আঘাত করা হয়নি। অভিযুক্তরা গত দেড় দশকে তাদের উপর হওয়া অত্যাচারের কথা বলে ক্ষোভ উগড়ে দেন ক্যামেরার সামনে। পরবর্তীতে পুলিশ ভ্যানে তোলা হলে তিনজনের মুখেই 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান শোনা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, আইনের চোখে যদি যুবকরা দোষ করে থাকেন তাহলে তো পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। সেটা না করে রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলো কেন? কেনই বা কেষ্ট অভিযোগ করলেন না? সমাজ মাধ্যমের একাংশ আবার গোটা ঘটনাকেই সাজানো নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন।
অনুব্রতর উপর হামলার ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার উপর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভরসন্ধ্যায় যেভাবে আক্রমণ করা হল সেখানে সাধারণ মানুষও এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যদিও বিজেপি নেতা রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, অনুব্রত এতদিন ধরে যা করেছেন তার উত্তর পেয়ে গিয়েছেন। ধৃতরা ছাড়া পাওয়ার পর কেষ্টর তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
















