দীর্ঘ টালবাহানা এবং টানাপড়েনের পর অবশেষে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আগামী ২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীর দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বক্সার জঙ্গলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বুধবার ভোর ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ সি-১৩০জে হারকিউলিস পণ্যবাহী বিমানে খাঁচাবন্দি হয়ে হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এসে পৌঁছয় বিহারের বাল্মীকি জাতীয় উদ্যান থেকে আনা পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীটি। সেখান থেকে পুলিশি কনভয় সহযোগে বন দফতরের বিশেষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গাড়িতে রাজাভাতখাওয়া হয়ে সেটিকে নিয়ে যাওয়া হয় বক্সার অন্দরে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, বক্সায় বাঘ না থাকা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে তৈরি হওয়া নানা প্রচার ডুয়ার্সের পর্যটনে প্রভাব ফেলেছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে রাজ্য সরকার অন্য রাজ্য থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এনে বক্সার জঙ্গলকে পুনরায় জীবন্ত করে তোলার পরিকল্পনা নেয়। তবে গোড়ায় অসমের জঙ্গল থেকে বাঘ আনার কথা থাকলেও কেন্দ্র এবং অসম সরকারের অসহযোগিতার কারণে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে বিহারের উদ্যান থেকে সেই বাঘ আনার পথ মসৃণ হয়।

এ দিন হাসিমারায় নামানোর পরই দফায় দফায় বাঘিনীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন বন দফতরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে সে সুস্থ রয়েছে বলেই বন দফতর সূত্রের খবর। আগামী পরশু, গান্ধী জয়ন্তীর দিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ জঙ্গলের গভীরে তৈরি বিশেষ এনক্লোজারে বাঘিনীটিকে ছাড়া হবে।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক পরিকল্পনায় একটি বাঘ এবং একটি বাঘিনী নিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আপাতত একটি বাঘিনীকেই বক্সায় আনা হয়েছে। বক্সার জঙ্গলে তার খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে বন দফতর জানিয়েছে।