"ভ্যানিশ কুমার চোর, ভ্যানিশ কুমার ডাকাত। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে ওঁকে। এখনই করতে হবে, করতেই হবে।... অনুরোধ নয়, এটা আমাদের জোরাল দাবি। ভ্যানিশ কুমারকে না সরালে আন্দোলন অনেক দূর যাবে।" বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের হাই ভোল্টেজ মিটিংয়ের পরে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে থেকে হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, সুপ্রিয়া শূলেদের পাশে নিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। বলেন, "তারা বাংলায় ভোট চুরি করেছে। আমরা নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এবং সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। এখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে"।
মমতার কথায়, "আমরা ঐক্যবদ্ধ, একজোট। এর চেয়ে বড় দুর্নীতি আগে হয়নি। বিহারে রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব ভোটচুরির কথা বলেছিলেন। ২০২৪ সালে ভোট চুরি করে জিতেছে বিজেপি (BJP)। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহারেও ভোট চুরি করে জিতেছে। বাংলায় পুরোটাই লুঠ করেছে। আমরা এখানে কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। কড়া নেড়েছি সব দরজায়। আর এখন তো সব প্রকাশ্যে।"
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করে তদন্ত হোক: জোরাল দাবিতে সরব শোভনদেব-কুণালরা
নির্বাচন কমিশনের কার্যপলাপ ও প্রযুক্তিগত কারচুপির বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মমতা। তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "ভ্যানিশ কুমার চোর, ভ্যানিশ কুমার ডাকাত। ভোট চুরি করেছেন, EVM পুড়িয়েছেন। হাইজ্যাক করেছেন EVM. গণনায় কারচুপি হয়েছে। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে ওঁকে। এখনই করতে হবে, করতেই হবে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে আমাদের। মানুষের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার...মানুষের কাছে দায়বদ্ধ আমরা। মানুষ যদি ভোট দিতে না পারেন, তাঁদের ভোট যদি চুরি হয়, দেশ কোথায় যাবে? অনুরোধ নয়, আমাদের জোরাল দাবি। ভ্যানিশ কুমারকে না সরালে আন্দোলন অনেক দূর যাবে। মাটি থেকে আকাশ, চাঁদ, সূর্যে পৌঁছবে আন্দোলন। একসঙ্গে লড়তে হবে আমাদের। কেন ভোট লুঠ করেছে? EVM মেশিন পোড়ালেন কেন? সীমা খান্না কে? সফ্টওয়্যার কোথা থেকে এল? বাংলায় ৯২ লক্ষ লুঠ করেছে। গোটা দেশে ১৩ কোটির বেশি। ERO-দের ডেডলক করে দিলেন! সিস্টেমকে শেষ করে দিয়েছেন। এক মিনিটও পদে থাকা উচিত নয় ওঁর। এখনই ইস্তফা দেওয়া উচিত। মানুষকে অনুরোধ, বিরোধী জোট কর্মসূচি শুরু করছে। আমাদের বেরোতে দেয় না বাড়ি থেকে। তাও আমরা সবাই শামিল হব। আমাদের না হয় বেরোতে দেবে না। ওরা কোথায় যাবে? গণতন্ত্র ফেরাতে, সংবিধান বাঁচাতে আমরা লড়ব, জিতব। এর জন্য প্রাণ বাজি রাখতেও প্রস্তুত আমরা। ছাত্রছাত্রী, মহিলা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সকলের সমর্থন প্রার্থনা করছি।" এই লড়াইয়ে দেশের সমস্ত ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ, মহিলা এবং সংবাদমাধ্যমের সমর্থনের আবেদন জানান মমতা।
















