চারিদিকে এখন পুজোর গন্ধ। শহর থেকে জেলা—জোরকদমে চলছে দুর্গাপুজোর (Durga Pujo) প্রস্তুতি। কোথাও মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা, কোথাও প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রং, আবার কোথাও পুজোর ছুটিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু উৎসবের এই আবহেই সামনে এল খানিকটা চিন্তার খবর। বছরের শেষ তিন মাসে উত্তর ভারত মহাসাগরে একাধিক ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) । ফলে পুজোর পর থেকে শুরু হওয়া বেড়ানোর মরসুমে আবহাওয়া কতটা সঙ্গ দেবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: 'খাম' প্রতীক নিয়ে আইএসএফের মামলা খারিজ হাইকোর্টে

ইসরোর অধীন স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টারের (SAC) পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ভারত মহাসাগরে প্রায় তিনটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। বর্ষার পরবর্তী মৌসুমে উত্তর ভারত মহাসাগরে তিনটি ট্রপিকাল সাইক্লোন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই ঝড় গুলি শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছে ইসরো। অর্থাৎ পুজোর পরের সময়টা আবহাওয়ার দিক থেকে একেবারে নজর এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এখনই নির্দিষ্ট করে কোনও ঘূর্ণিঝড় কোথায় আছড়ে পড়বে, তা বলা হয়নি। তবে, অন্ধ্রপ্রদেশ বা ওড়িশার দিকে ঘূর্ণিঝড় দেখা গেলে তার প্রভাব কিছুটা হলেও বাংলার উপর পড়তে দেখা গিয়েছে। যেমন, সেপ্টেম্বর মাসেই গভীর নিম্নচাপ পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে না পড়লেও আবহাওয়া যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। তাই ভ্রমণের সময় যত এগিয়ে আসবে, তত বেশি গুরুত্ব পাবে আবহাওয়া দফতরের নির্দিষ্ট পূর্বাভাস।

পুজোর পর দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং কিংবা উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন বহু মানুষ। কোনও ঘূর্ণিঝড় সরাসরি পাহাড়ে গিয়ে আছড়ে পড়বে না। কিন্তু তার প্রভাবে তৈরি হওয়া বৃষ্টিবাহী মেঘ বা পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামা, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, নদী-নালায় জলস্তর বৃদ্ধি কিংবা পর্যটকদের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। অর্থাৎ, ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরের পর্যটন এলাকাতেও পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শঙ্করপুর কিংবা বাংলার অন্যান্য সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্রে অবশ্য পরিস্থিতি আলাদা।

 বঙ্গোপসাগরে কোনও শক্তিশালী নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে সমুদ্রের অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। বাড়তে পারে ঢেউ, বাতাসের গতি এবং বৃষ্টির তীব্রতা। সে ক্ষেত্রে সৈকতে নামা, সমুদ্রে নামা বা নৌকায় যাতায়াতের মতো বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন ব্যবসার ক্ষেত্রেও ঝড়ের গতিপথ ও সতর্কবার্তার উপর নির্ভর করে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাই পুজোর পর বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা জরুরি।