তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) উপর হামলার ঘটনা ‘রোমহর্ষক’। বুধবার, বিধানসভা থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন চৌরঙ্গীর তৃণমূল (TMC) বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (Nayana Banerjee)। একই সঙ্গে কুণালের উপর হামলায় স্বামী এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Banerjee) নাম জড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করেন নয়না। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছে করেই এই ন্যারোটিভ তৈরি করছে বিজেপি (BJP)। কুণাল জানান, তিনি কারও নাম নেননি, কিন্তু বিজেপির নেতারা সুদীপের নাম বলছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তৃণমূল বিধায়ক জানান, তাঁর উপর হামলার ঘটনায় একবারও বেলেঘাটা থানা তাঁর বয়ান নেয়নি। নয়নার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে এখন ‘মিষ্টি’- সেই কথাও জানান কুণাল।
চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে কুণালের গাড়িতে দুবার হামলা- প্রথমে উত্তরপাড়া ও পরে নিজের কেন্দ্র বেলেঘাটা- লাঠি, শাবল, হাতুড়ি, ইট, পাথর নিয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণ। গাড়ি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ। রীতিমতো রিভলবার উচিয়ে হুমকি। শেষে গাড়ি নিয়ে থানায় ঢুকে রেহাই পান তৃণমূল বিধায়ক। কুণালের উপর হামলা নিন্দা হয়েছে সব মহলে। অদ্ভূত উদাসীন পুলিশ-প্রশাসন। বেলেঘাটার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এমনকী কুণালের বয়ান পর্যন্ত রেকর্ড করেনি পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির উত্তর ও মধ্য কলকাতার নেতা-বিধায়করা একে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে দাগিয়ে দিতে চাইছেন। যদিও কুণাল নিজে এই বিষয়ে কারও নাম উল্লেখ করেননি।
আরও পড়ুন: ‘চোর-ডাকাত ভ্যানিশ কুমার’ ইস্তফা না দিলে আন্দোলন অনেক দূর যাবে: দিল্লির বৈঠকে রণংদেহি মেজাজে মমতা
এদিন কুণালকে পাশে নিয়ে নয়না বলেন, “কুণালদা আমাকে কী বললেন, সেটা আমার ব্যাপার। কিন্তু কুণালদার উপরে হাতুড়ি দিয়ে মারবে? এটা হবে না। এরপরেও বেরোব। দেখি কী করিস!” এর পরেই হামলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ানোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, নিজেদের দোষ ঢাকতে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা বলছে ওটা তৃণমূলে-তৃণমূলে লড়াই। সুদীপ কোনও কথা বলেন না বলে তাঁর উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। নাম না করে নয়না বলেন, উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতারা এই ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছেন।
এই কথার রেশ ধরে কুণাল বলেন, বিজেপির নেতৃত্বের তরফে আমাদের নেতৃত্বের নাম বলা হচ্ছে, আমি তো কারও নাম নিইনি। উত্তরপাড়ায় হামলাস্থলে তো বিজেপির মণ্ডল সভাপতিকেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। আর বেলেঘাটার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি কেন! এমনকী, বেলেঘাটা থানা এখনও আমার বয়ান পর্যন্ত রেকর্ড করেনি।
তৃণমূলের উত্তর কলকাতার সভাপতি বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ের জায়গা থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি বলেছেন, বলবেন। কারণ তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পাশে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এখনও তাঁর সুসম্পর্ক। এবারের লক্ষ্মীপুজোতেও নয়না তাঁকে নাড়ু খাওয়ার নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন কুণাল।
















