জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তাফা করতে হবে, গ্রেফতার করতে হবে, তদন্ত করতে হবে, পুরনো তালিকায় ভোট করতে হবে- এই দাবি তুলে জোর সওয়াল করল তৃণমূলের বিধানসভার পরিষদীয় দল। বুধবার এদিকে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commission) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বৈঠক করছে বিরোধী ইন্ডিয়া, তখন বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারির দাবি তুলে বিজেপি সরকারকে ধুয়ে দিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovandev Chattapadhyay), কুণাল ঘোষরা। 
এদিন শুরুতেই বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সহকারী পরিষদীয় দলনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, তৌসিফ আহমেদ, কাশেম সিদ্দিকি জ্ঞানেশের ইস্তফা ও গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। কুণাল বলেন, যেভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে ভাবে ভোটচুরি করেছেন, তাতে অবিলম্বে তাঁকে ইস্তাফা দিতে হবে, গ্রেফতার করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এক বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গড়ে ঘটনার তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে এসআইআর বন্ধ করে, নতুন ভোটর লিস্ট (Voter List) বাতিল করে, আগের তালিকায় ভোট করার দাবি জানান তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) ও তাঁর টিম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে (BJP) ক্ষমতায় এনেছেন। এসআইআর করে নাম বাদ দিয়ে, গণনাকেন্দ্র হামলা করিয়ে বিজেপির অনুকূলে ভোটের ফল করিয়েছেন। 
তীব্র আক্রমণ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে পুলিশ শাসকদলের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়েছে। এখানে পুলিশরাজ চলছে বললেও সম্মান দিয়ে বলা হবে। বিধানসভায় নির্বাচনের সময় ভবানীপুর কেন্দ্রে গণনার কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা অভিযোগ করেন, সেদিন গগণাকেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সব এজেন্টকে মেরে বের করে দেওয়া হয়। শুধু একটি মেয়ে ছিল। প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পর্যন্ত ধাক্কা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করা হয়। আর বর্তমান যিনি ওই কেন্দ্র থেকে জেতা বিধায়ক তিনি বাইরে থেকে বলেছে থাকেন কত ভোটে জিতছেন। এটা কীভাবে হতে পারে! প্রশ্ন তোলেন শোভনদেব।
আরও পড়ুন: মিলনের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য, সোমে শুনানি
বিজেপি সরকারকে নিশানা করে কুণাল অভিযোগ করেন, রাজ্যে বিরোধীশূন্য করতে চাইছে না শাসকদল। সেই কারণে, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রচারের যাওয়ার পথেই নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তৃণমূল সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জামিনের আর্জি খারিজের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য। নন্দীগ্রামে পায়ের তলায় জমি নেই বুঝেই পুলিশি জুলুম করে সেখানে ভোট করতে চাইছে বিজেপি- তীব্র কটাক্ষ কুণালের।
















