নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan) অন্তর্বর্তী জামিনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হল রাজ্য। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) মিলনকে শর্তসাপেক্ষে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জামিন দিলেও কিছু আইনগত জটিলতার কারণে জেল মুক্তি হয়নি কংগ্রেস প্রার্থীর। বুধবার সকালে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মাঝে রাজ্য সরকার জামিন সংক্রান্ত নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম দ্বারস্থ হওয়ায় আজ মিলন বাইরে আসতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আগামী সোমবার অর্থাৎ পাঁচ অক্টোবর শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি দিন ধার্য হয়েছে। 

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। তার আগে মঙ্গলবার ছয়টি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। কুড়ি হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্দে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, জেলের বাইরে থেকে উপনির্বাচন লড়তে পারবেন কংগ্রেসপ্রার্থী। তবে পুলিশের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রোজ দুবার তাঁকে ফোন করতে পারবেন পুলিশ আধিকারিকরা। থানায় মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে মিলনকে। এরপরই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকে শুভঙ্কর সাংবাদিকদের বলেন 'এই ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেল যে মিথ্যে বেশিদিন টেকে না। সত্যের জয় হয়েছে।' ভয় পেয়ে মিলনকে ফাঁসানোর যে চক্রান্ত করেছিল বিজেপি তাতে তারা ব্যর্থ, এমনটাই জানিয়েছিল কংগ্রেস।

নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেসের তরফ থেকে মিলন প্রধানের নাম ঘোষণা হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সমর্থন করার কথা জানাতেই পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিলনকে। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা ছিল যার মধ্যে ছটি রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করেছে। বাকি পাঁচটা মামলার মধ্যে খেজুরি থানার দুটি এবং নন্দীগ্রাম থানার বাকি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন চেয়েছিলেন মিলন। সওয়াল - জবাবের পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, জামিন দিচ্ছি, উনি ভোটে লড়াই করুন। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী কুড়ি অক্টোবর পর্যন্ত তদন্তে নিয়মিত সহযোগিতা করতে হবে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। আগামী ২১ অক্টোবর (বুধবার) আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করা নির্দেশ দেওয়া হয় মিলনকে। এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় আদৌ উপনির্বাচনের জন্য কতটা প্রচার করতে পারবেন মিলন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেল।